৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে মুখ খুললেন রাষ্ট্রপতি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে মুখ খুললেন রাষ্ট্রপতি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 24, 2026 ইং
৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে মুখ খুললেন রাষ্ট্রপতি ছবির ক্যাপশন:

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট—আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলন যখন জনবিস্ফোরণে রূপ নেয়, তখন দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বঙ্গভবন-এর ভেতরের পরিস্থিতিও ছিল চরম অনিশ্চয়তা ও উৎকণ্ঠায় ভরা। সেই দিনের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে প্রথমবারের মতো বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

বেসরকারি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি জানান, ৫ আগস্টের আন্দোলন যে এভাবে হঠাৎ করে বিস্ফোরণ ঘটাবে, তা কেউই আগে থেকে অনুমান করতে পারেনি। ওই দিন দুপুরের দিকে পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যে নাটকীয়ভাবে বদলে যেতে শুরু করে।

রাষ্ট্রপতির ভাষ্য অনুযায়ী, যখন বিক্ষোভকারীরা গণভবনের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, তখন তাকে জানানো হয় যে প্রধানমন্ত্রী যে কোনো মুহূর্তে বঙ্গভবনে আসতে পারেন। দুপুর ১২টার দিকে আবার জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ তথ্য পাওয়ার আগ পর্যন্ত বঙ্গভবনের ভেতরে থাকা কেউই পুরো পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করতে পারেননি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে আসবেন—এমন তথ্য এবং হেলিকপ্টার প্রস্তুত থাকার খবরে তখনই বোঝা যায় যে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক। সে সময় বঙ্গভবনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সবাই নিজ নিজ অবস্থান নিয়ে নেয়।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ জানানো হয় যে প্রধানমন্ত্রী আর বঙ্গভবনে আসছেন না। কিছুক্ষণ পরই শোনা যায়, তিনি দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি ইতোমধ্যে দেশের বাইরে চলে গেছেন। সব মিলিয়ে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে পুরো ঘটনাপ্রবাহ দ্রুত পাল্টে যায়।

ওই দিনের বিকেল ৩টার দিকে প্রথমে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ফোন করে রাষ্ট্রপতিকে সব ঘটনা অবহিত করেন। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন বিভাগ থেকেও পরিস্থিতি সম্পর্কে তাকে জানানো হয়। এরপর জানানো হয়, সেনাপ্রধান সাংবাদিকদের সামনে পুরো পরিস্থিতি নিয়ে একটি ব্রিফিং দেবেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সেই ব্রিফিং টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হয়। সেখানে সেনাপ্রধান জানান যে প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগ করেছেন। এতে দেশবাসীর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। ব্রিফিংয়ের পর সেনাপ্রধান আবার ফোন করে জানান, তিনি ও অন্য সামরিক প্রধানরা বঙ্গভবনে আসছেন।

এরপর সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধান—তিনজনই বঙ্গভবনে এসে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সেখানে উদ্ভূত সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

রাষ্ট্রপতির ভাষায়, সে সময় তারা সবাই প্রায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় ছিলেন। কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়, কী সিদ্ধান্ত নিলে দেশকে স্থিতিশীল রাখা সম্ভব—এসব বিষয় নিয়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টা ধরে আলোচনা চলে। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়, দেশের সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের ডাকা হবে।

এই দায়িত্বে সেনাবাহিনীর একটি টিম নিয়োজিত হয়। সেনা সদরে রাজনৈতিক দলের নেতাদের একত্র করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন প্রতিনিধিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। যাদের পাওয়া গেছে, তাদের নিয়েই পরে আবার বঙ্গভবনে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

রাষ্ট্রপতির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেনাপ্রধান বৈঠকের সঞ্চালনা করেন এবং পুরো পরিস্থিতির বিশদ ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রপতি জানান, ওই বৈঠকে তিনটি মূল প্রস্তাব সামনে আসে—তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকার। তবে নানা বিবেচনায় রাজনৈতিক নেতারা সিদ্ধান্ত নেন যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।

এই সিদ্ধান্তের পর রাষ্ট্রপতির ওপর দায়িত্ব পড়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করার। তিনি জানান, ওই রাত ১১টায় তিনি ভাষণ দেন। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সেনাবাহিনীর আলোচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। সেনাবাহিনী সহযোগী হিসেবে পাশে থাকবে—এমন সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।

রাষ্ট্রপতির এই বর্ণনায় ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দিন বঙ্গভবনের ভেতরের অনিশ্চয়তা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার সংকটময় মুহূর্তের একটি স্পষ্ট চিত্র উঠে এসেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নির্বাচনী হলফনামায় পার্থর আয়-সম্পদের পূর্ণ চিত্র

নির্বাচনী হলফনামায় পার্থর আয়-সম্পদের পূর্ণ চিত্র