অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কঠোর করতে নতুন নীতিতে একমত হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ফরাসি বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত বা বৈধ কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদের ইউরোপ থেকে সরাসরি নিজ দেশে অথবা তৃতীয় দেশে স্থাপিত বিশেষ প্রত্যাবাসন কেন্দ্রে পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপে যেসব বিদেশিকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয় তাদের একটি বড় অংশ বাস্তবে নিজ দেশে ফিরে যায় না। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউরোপীয় কমিশন, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলো নতুন অভিবাসন নীতিতে সমঝোতায় পৌঁছেছে।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির আশ্রয় আবেদন চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হলে অথবা ইউরোপে থাকার বৈধ অনুমতি না থাকলে সংশ্লিষ্ট দেশ তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। প্রয়োজনে তাকে নিজ দেশে না পাঠিয়ে ইউরোপের বাইরে কোনো তৃতীয় দেশে স্থাপিত ‘রিটার্ন হাব’ বা প্রত্যাবাসন কেন্দ্রে পাঠানো যাবে।
এছাড়া নতুন ব্যবস্থায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বহিষ্কার সিদ্ধান্ত পারস্পরিকভাবে স্বীকৃত হবে, ফলে এক দেশ থেকে অন্য দেশে গিয়ে বহিষ্কার এড়ানোর সুযোগ অনেকটাই কমে যাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসন ইস্যু রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসে চাপ বাড়ার কারণে ইউরোপীয় নেতারা অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই পরিকল্পনার সমালোচনা করে বলেছে, তৃতীয় দেশে প্রত্যাবাসন কেন্দ্র স্থাপন অভিবাসীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং মানবিক সংকট তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে ইউরোপীয় কমিশন দাবি করছে, যাদের ইউরোপে থাকার বৈধ ভিত্তি নেই, তাদের দ্রুত ও কার্যকরভাবে ফেরত পাঠানোই এই নীতির মূল লক্ষ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে ইউরোপের অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের ওপর প্রশাসনিক চাপ আরও বাড়বে।
কসমিক ডেস্ক