চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় ট্রেন চলাচলের সময় রেললাইনের একটি অংশ ভেঙে পড়ার ঘটনায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী আন্তঃনগর রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনটি উথলী ফার্মগেট এলাকা অতিক্রম করার সময় এই ঘটনা ঘটে। ট্রেনটি চলন্ত অবস্থায় রেললাইনের প্রায় ছয় ইঞ্চি অংশ ভেঙে দূরে ছিটকে পড়ে। তবে সৌভাগ্যবশত ট্রেনটি নিরাপদেই ওই অংশ পার হয়ে যায়।
ঘটনার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট রুটে ট্রেন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ধীরগতিতে পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থানীয় রেলওয়ে সূত্রগুলো জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইনের ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচল অব্যাহত থাকলেও যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রেললাইনের লোহার পাতে পর্যাপ্ত টেম্পার বা প্রযুক্তিগত শক্তি না থাকার কারণেই পাতটি ভেঙে গেছে। দীর্ঘদিন ব্যবহৃত রেললাইনে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ভারী ও দ্রুতগামী ট্রেন চলাচলের সময় দুর্বল লাইনে চাপ পড়লে ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ে।
ঘটনার পরপরই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। খবর পেয়ে ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ থেকে চার সদস্যের একটি কারিগরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইনের মেরামত কাজ শুরু করে। মেরামত চলাকালে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই অংশে ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রিত ও ধীরগতিতে পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উথলী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার মিন্টু কুমার রায় জানান, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা আপ আন্তঃনগর রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনটি উথলী স্টেশন অতিক্রম করার সময় রেললাইনের লোহার পাত ভেঙে যায়। এতে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় কোনো দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, লাইনের মেরামত কাজ চলমান রয়েছে এবং দ্রুতই ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।
স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে এই ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে প্রতিদিন বহু যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করে। রেললাইনের এমন ভাঙন যাত্রীদের জীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তারা রেল কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়মিত পরিদর্শন ও টেকসই মেরামতের দাবি জানিয়েছেন।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন রুটে পুরনো রেললাইন এখনও ব্যবহৃত হচ্ছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়নের অভাবে কোথাও কোথাও এমন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে দুর্ঘটনা এড়ানোর চেষ্টা করা হয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, উথলী ফার্মগেট এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত অংশে স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি মূল্যায়ন করা হবে। ভবিষ্যতে যেন একই ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেজন্য লাইনের মান যাচাই এবং প্রয়োজন হলে নতুন লোহার পাত বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
রেল বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেললাইনের গুণগত মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য ত্রুটিও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই নিয়মিত পরিদর্শন, সময়মতো যন্ত্রাংশ পরিবর্তন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি।
সব মিলিয়ে, চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ট্রেন চলাচলের সময় রেললাইন ভেঙে পড়ার ঘটনা যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। দ্রুত মেরামত কাজ শেষ করে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।