আম চাষিদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ, ফলন কমার আশঙ্কা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

আম চাষিদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ, ফলন কমার আশঙ্কা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 4, 2026 ইং
আম চাষিদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ, ফলন কমার আশঙ্কা ছবির ক্যাপশন:

চলতি মৌসুমের শুরুতে গাছে গাছে মুকুলের সমারোহ দেখে আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন রাজশাহী অঞ্চলের আমচাষিরা। বাগানজুড়ে সোনালি মুকুল ভালো ফলনের ইঙ্গিত দিলেও সময়ের সঙ্গে সেই আশার আলো অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। এখন অনেক বাগানেই আশানুরূপ আম দেখা যাচ্ছে না।

খরা, অনিয়মিত আবহাওয়া এবং পোকার আক্রমণে রাজশাহী ও নওগাঁ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় গাছ থেকে ঝরে পড়েছে আমের গুটি। এতে করে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে পাশের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো থাকলেও সেখানেও বাজারদর নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েই গেছে।

নওগাঁর আমচাষি হাফিজুর রহমান জানান, মৌসুমের শুরুতে যে পরিমাণ মুকুল এসেছিল, তাতে ভালো ফলনের আশা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই হিসাব মিলছে না। বাজারে সঠিক তদারকি না থাকলে কৃষক থেকে শুরু করে বাগান মালিক সবাই বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

রাজশাহীর পবা উপজেলার চাষি রাসেল বলেন, খরার কারণে গাছে আম টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন তিনি। একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছেন বাঘা উপজেলার চাষি দোলা। তার মতে, শুরুতে বাম্পার ফলনের আশা থাকলেও এখন গাছে অর্ধেকেরও কম আম রয়েছে এবং প্রতিদিনই ঝরে পড়ছে।

গোদাগাড়ী উপজেলার চাষি আজমত আলী বলেন, পর্যাপ্ত সেচ দিতে না পারায় অনেক গাছে ফলই ধরেনি। বাজারে ভালো দাম না পেলে ঋণ পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়বে।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে রাজশাহী অঞ্চলে প্রায় ৯৯ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এখান থেকে প্রায় ১২ লাখ টন আম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা।

গত কয়েক বছর ধরেই নানা সংকটে রয়েছেন এ অঞ্চলের আমচাষিরা। করোনার প্রভাব কাটার আগেই খরা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং মৌসুমে দীর্ঘ ঈদ ছুটির কারণে বাজার ব্যবস্থাপনায় স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। ফলে লোকসানের চক্র থেকে বের হতে পারছেন না তারা।

মোহনপুরের আম ব্যবসায়ী সরিফুল ইসলাম বলেন, প্রতি মণ আম যদি দুই হাজার টাকার মতো বিক্রি হয়, তাহলে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তবে অনেক সময় হাটে নিয়ে গিয়েও ন্যায্য দাম পাওয়া যায় না, যার কারণে অনেকেই হতাশ হয়ে বাগান কেটে ফেলছেন।

এদিকে আর কয়েকদিনের মধ্যেই রাজশাহী ও আশপাশের জেলাগুলোতে পাকা আম বাজারে আসতে শুরু করবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগাম অপরিপক্ব আম সংগ্রহ ও বাজারজাত ঠেকাতে নজরদারি জোরদারের কথা বলা হয়েছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন জানান, অপরিপক্ব আম সংগ্রহ ঠেকাতে নির্ধারিত সময়সূচি দেওয়া হবে এবং কৃষকরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান সে বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আম সংরক্ষণের বিকল্প পদ্ধতি যেমন আমসত্ত্ব, চিপস, জ্যাম ও জেলি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান বলেন, কৃষকদের প্রক্রিয়াজাতকরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে বাজারদর কমে গেলেও তারা বিকল্প উপায়ে লাভবান হতে পারেন।

মুকুল আসার আগ থেকেই চাষিরা গাছের পরিচর্যায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তবুও প্রকৃতির প্রতিকূলতায় অনেক বাগানে আশানুরূপ ফলন আসেনি। এখন গাছে থাকা আমগুলো যদি ভরা মৌসুমে ভালো দামে বিক্রি করা যায়, তবেই কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শেষ পর্যন্ত বাজারদরই নির্ধারণ করবে এই মৌসুমে আমচাষিদের মুখে হাসি ফুটবে, নাকি হতাশাই বাড়বে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: নিহত পরিবার পাবে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: নিহত পরিবার পাবে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা