সংস্কৃতিমন্ত্রীর সঙ্গে নেপাল রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

সংস্কৃতিমন্ত্রীর সঙ্গে নেপাল রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 4, 2026 ইং
সংস্কৃতিমন্ত্রীর সঙ্গে নেপাল রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ ছবির ক্যাপশন:

বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘস্থায়ী সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে সচিবালয়ে তার অফিসকক্ষে সাক্ষাৎ করেন।

রবিবার (৩ মে) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে নেপালের উপ-মিশন প্রধান মিজ লালিতা সিওয়ালও উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক, ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক বন্ধনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

উভয় পক্ষই স্বীকার করেন যে বাংলাদেশ ও নেপালের সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক নয়, বরং গভীর সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ। এই সম্পর্ককে আরও বেগবান করতে সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির (Cultural Exchange Program – CEP 2022-2025) মেয়াদ নবায়ন ও এর পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী মন্ত্রীকে জানান, আগামী ১৫ মে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ‘নেপাল উৎসব’ আয়োজন করা হবে। এই উৎসব যৌথভাবে আয়োজন করছে নেপাল দূতাবাস এবং বাংলাদেশ-নেপাল ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি। তিনি এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান।

তিনি আরও জানান, নেপালের পোখরা একাডেমি থেকে একটি সাংস্কৃতিক দল এই উৎসবে অংশ নেবে। সেখানে নেপালের ঐতিহ্যবাহী সংগীত, নৃত্য এবং নেপালি খাবারের বৈচিত্র্য প্রদর্শন করা হবে, যা দুই দেশের জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়কে আরও সমৃদ্ধ করবে।

সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর এবং ঐতিহাসিক। তিনি বলেন, দুই দেশের শিল্প, সাহিত্য ও ঐতিহ্যের আদান-প্রদান জনগণের মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ের চাহিদা অনুযায়ী ডিজিটাল সংস্কৃতি, সৃজনশীল শিল্প এবং বিমূর্ত ঐতিহ্যকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি আধুনিক ও সময়োপযোগী নতুন সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

মন্ত্রী বাংলা একাডেমি ও নেপাল একাডেমির মধ্যে দীর্ঘদিনের সাহিত্যিক সহযোগিতা পুনরুজ্জীবিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি দুই দেশের সাহিত্যকর্ম অনুবাদ এবং প্রকাশনার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী বাংলাদেশের আতিথেয়তার প্রশংসা করে বলেন, নেপাল বাংলাদেশের সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। তিনি জানান, ঢাকা আয়োজিত এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে (Asian Art Biennale) নেপাল নিয়মিত অংশগ্রহণ করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে হেরিটেজ ট্যুরিজম বা সাংস্কৃতিক পর্যটন বিকাশে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে, যা উভয় দেশের অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।

বৈঠকে দুই দেশের শিল্পী, গবেষক ও সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদের নিয়মিত সফর বিনিময়, যৌথ প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করেন, এই ধরনের কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ বাংলাদেশ ও নেপালের সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সব মিলিয়ে, এই সৌজন্য সাক্ষাৎ দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
দ্বিতীয় পাইলটকেও নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে দাবি যুক্তরাষ্ট্র

দ্বিতীয় পাইলটকেও নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে দাবি যুক্তরাষ্ট্র