দেশজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে আবহাওয়াবিদ ড. মোহাম্মদ বজলুর রশিদ জানান, বর্তমান তাপপ্রবাহ অন্তত আরও দুই থেকে তিন দিন স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে তাপমাত্রা কমার কোনো ইঙ্গিত নেই।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের কিছু কিছু এলাকায় হালকা বৃষ্টি হলেও তা গরমের তীব্রতা কমাতে পারবে না। বরং উচ্চ আর্দ্রতার কারণে গরম আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে, যা জনজীবনকে চরমভাবে প্রভাবিত করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাতাসে জলীয় বাষ্প বা আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় শরীরের ঘাম সহজে শুকায় না, ফলে গরমের অনুভূতি স্বাভাবিক তাপমাত্রার তুলনায় অনেক বেশি হয়। এ কারণে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষ চরম অস্বস্তিতে ভুগছে।
বর্তমানে ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এসব অঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি থাকছে। বিশেষ করে দুপুরের দিকে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।
বগুড়ায় চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা দেশের আবহাওয়া পরিস্থিতির তীব্রতা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। অন্যদিকে ঢাকায় বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সঙ্গে বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৬ শতাংশ।
আবহাওয়াবিদরা জানান, চলতি জুন মাসজুড়েই দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে দ্বিতীয় সপ্তাহে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সময় কিছুটা স্বস্তি মিললেও, বৃষ্টির প্রবণতা কমে গেলে আবারও নতুন করে তাপপ্রবাহ শুরু হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, জুন মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দুই থেকে তিন দফা তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। ফলে পুরো মাসজুড়ে আবহাওয়ার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল থাকতে পারে।
ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তবে এতে তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলছেন, প্রচণ্ড গরমে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা এবং শারীরিক দুর্বলতার ঝুঁকি বাড়ে। তাই অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং শিশু ও বৃদ্ধদের বিশেষভাবে যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে আগামী কয়েকদিন দেশের আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। বরং তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় জনজীবনে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক