কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় এই মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় চাষিরা হতাশার মুখে পড়েছেন। গত মৌসুমের ক্ষতির প্রভাবও কাটতে না কাটতেই নতুন মৌসুমে ঋণ ও ধার-দেনার মাধ্যমে আলু চাষ করতে গিয়ে তাদের লাভের পরিবর্তে লোকসান হয়েছে।
স্থানীয় চাষিরা জানান, এক বিঘা জমিতে আলু আবাদ করতে রোপণ, নিরানি, সার, কীটনাশক, সেচ এবং উত্তোলন খরচ সব মিলিয়ে গড়ে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। ভালো ফলন হলেও প্রতি বিঘা থেকে ৭৫–৮০ মণ আলু উৎপন্ন হয়। কিন্তু বর্তমানে পাইকারি বাজারে আলুর দাম কেজিপ্রতি আট থেকে ১০ টাকার মধ্যে থাকায় মোট বিক্রি দাঁড়ায় মাত্র ৩৫–৪০ হাজার টাকা। ফলে চাষিদের হিসাব অনুযায়ী প্রতি বিঘায় ১০–১৫ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে।
উপজেলার মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের আলুচাষি মিনহাজ উদ্দীন জানান, “এই বছর আমি দুই বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। ফলন ভালো হলেও বাজারে দাম কম থাকায় লোকসান হবে। গত বছরও এমন পরিস্থিতির মুখে পড়েছি।” একইভাবে সুখিয়া এলাকার আলুচাষি হামিদুর রহমান টিটু বলেন, “পাঁচ একর জমিতে আলু আবাদ করেছি। ফলন ভালো হলেও বাজারমূল্য সন্তোষজনক নয়। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি বিঘায় ১০–১২ হাজার টাকা লোকসান হবে। গত বছরও আলু চাষে আমি লোকসান ভোগ করেছি।”
পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় চলতি মৌসুমে এক হাজার ৩৮৪ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় রোগ-বালাই কম হওয়ায় ফলন তুলনামূলক ভালো হয়েছে। চাষিরা এই মৌসুমে ডায়মন্ড, এলুয়েড, কার্ডিনাল, এস্টোরিজ, সানসাইন ও বারি আলু-৯০ জাতের আলু চাষ করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর-ই-আলম বলেন, “আবহাওয়া অনুকূল হওয়ায় এই বছর আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে বাজারমূল্য কম থাকায় চাষিরা লাভবান হচ্ছেন না। এটি কৃষিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “উপজেলায় আলুভিত্তিক শিল্প কারখানা গড়ে তোলা গেলে স্থানীয়ভাবে নতুন বাজার তৈরি হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং কৃষকরা তাদের উৎপাদিত আলুর ন্যায্য মূল্য পাবেন।”
চাষিরা আশা করছেন, স্থানীয় বাজারে সমন্বয় ও সরকারী সহায়তার মাধ্যমে তাদের উৎপাদিত আলু ন্যায্য দামে বিক্রি করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তারা কৃষি আধুনিকায়নের ওপর জোর দিচ্ছেন, যাতে ভবিষ্যতে উৎপাদন ব্যয় ও বাজারমূল্য সমন্বয় করা যায়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকুন্দিয়ার আলুচাষিরা শিখেছেন যে শুধুমাত্র ভালো ফলনই যথেষ্ট নয়; বাজার ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় ছাড়া লাভ অর্জন করা কঠিন। সরকারের পক্ষ থেকে কৃষি নীতিমালা ও স্থানীয় কৃষি সমিতির কার্যক্রমকে আরও সক্রিয় করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, পাকুন্দিয়া উপজেলায় বাম্পার ফলনের মধ্যেও ন্যায্য বাজারমূল্য না পাওয়ায় আলুচাষিরা লোকসান ভোগ করছেন। বাজার ও উৎপাদনের সমন্বয়, স্থানীয় শিল্পায়ন এবং সরকারী সহায়তা ছাড়া চাষিরা প্রতিনিয়ত আর্থিক চাপে রয়েছেন।
কসমিক ডেস্ক