টানা কয়েকদিনের বৃষ্টি ও গুমোট আবহাওয়ার কারণে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ভুট্টা চাষিরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ভালো ফলন হলেও শেষ সময়ে এসে বৃষ্টির কারণে সেই ফসল এখন ক্ষতির মুখে পড়েছে।
উপজেলার চিলমারী, নয়ারহাট ও অষ্টমীচর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় এ বছর ভুট্টার আবাদ হয়েছিল। মাঠ থেকে ফসল সংগ্রহ করে ঘরে তোলার পরও তা শুকাতে না পারায় সমস্যায় পড়েছেন কৃষকরা। রোদের অভাবে ভুট্টার দানায় ছত্রাক দেখা দিচ্ছে, কোথাও কোথাও অঙ্কুরোদগম শুরু হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, খোলা জায়গায় রাখা ভুট্টা বারবার বৃষ্টিতে ভিজে আরও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অষ্টমীচর ইউনিয়নের নটারকান্দি এলাকার কৃষকরা জানান, তারা এক থেকে পাঁচ বিঘা পর্যন্ত জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন। কিন্তু প্রায় ১০ দিনের টানা বৃষ্টি ও রোদের অভাবে অনেকের ভুট্টা পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে দানায় গজিয়ে যাচ্ছে।
কৃষকরা বলেন, ফসল ঘরে তুলেও এখন তা সংরক্ষণ করতে না পারায় তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। সময়মতো শুকাতে না পারলে বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাবে না এবং পুরো ফসলই নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
চরাঞ্চলের বালুমিশ্রিত জমিতে এ বছর ভুট্টার ফলন তুলনামূলক ভালো হলেও আবহাওয়ার প্রতিকূলতার কারণে সেই ফলন এখন কৃষকদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, ক্ষতি কমাতে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছের ভুট্টা দ্রুত সংগ্রহ এবং পরিপক্ব ফসল আবহাওয়া অনুকূলে এলে কাটার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভুট্টার মোচার নিচে গাছ মুচড়িয়ে দেওয়ার কৌশল ব্যবহার এবং আর্দ্রতা ১৪ শতাংশের নিচে নামিয়ে সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
চিলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান, চলতি মৌসুমে প্রায় ২ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। ক্ষতি এড়াতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রণোদনার আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক