দেশজুড়ে যখন হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে, তখন প্রতিদিনই অনেক নিষ্পাপ শিশুর জীবন নিভে যাচ্ছে। এমনই এক হৃদয়বিদারক বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে একটি আবেগঘন গান—“নতুন ফুলের গান”। শিশুদের জীবন, স্বপ্ন এবং নিরাপত্তার বার্তা তুলে ধরতেই এই গানটি তৈরি করেছেন গীতিকবি শেখ রানা।
গানটির মাধ্যমে শুধু একটি শিল্পকর্ম নয়, বরং একটি সামাজিক বার্তাও তুলে ধরা হয়েছে। কোমলমতি শিশুদের হারানোর বেদনা এবং তাদের পরিবারের অসহায়ত্বকে সুর ও কথার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে এই গানে। এটি এমন এক সময় তৈরি হয়েছে, যখন দেশে হামের কারণে শিশু মৃত্যুর খবর বারবার সামনে আসছে।
গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন মুসাফির আরিয়ান, আর সংগীতায়োজন করেছেন অটামনাল মুন। ভিডিও সম্পাদনার কাজ করেছেন আফরিন নাহার। প্রকাশের পর থেকেই গানটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং অনেক শ্রোতা এটি শুনে আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।
গীতিকবি শেখ রানা জানান, এই গানের লিরিক তিনি প্রায় দুই সপ্তাহ আগে লিখেছিলেন। পরে নিজেই গিটার বাজিয়ে একটি বিষণ্ণ সুর তৈরির চেষ্টা করেন। তবে তিনি মনে করেন, প্রথম সুরটি পুরোপুরি সন্তোষজনক ছিল না। তার ভাষায়, “বিষণ্নতারও একটা সুর থাকে, কিন্তু সেটা তখন ঠিকভাবে ধরা যায়নি।”
পরবর্তীতে তিনি লিরিকটি মুসাফির আরিয়ানের কাছে দেন। আরিয়ান গানটির কথাগুলো অনুভব করে একটি ভিন্ন ধরনের আবেগময় সুর তৈরি করেন, যা গীতিকবির মনে বিশেষভাবে দাগ কাটে। এরপর অটামনাল মুনকে অনুরোধ করা হলে তিনি পুরো সংগীতায়োজন সম্পন্ন করেন এবং গানটি চূড়ান্ত রূপ পায়।
গানটি প্রসঙ্গে শেখ রানা আরও বলেন, এটি কোনো সাধারণ গান নয়, বরং একটি সময়ের প্রতিচ্ছবি। তার মতে, হামের কারণে যে শত শত শিশু প্রাণ হারিয়েছে, সেই বাস্তবতাকে শব্দে প্রকাশ করা অত্যন্ত কঠিন। এই বেদনা শুধুমাত্র সেই পরিবারগুলোই অনুভব করতে পারে, যারা সন্তান হারিয়েছে। তবুও এই গানটি সেই হাহাকারকে কিছুটা হলেও সবার সামনে তুলে ধরার একটি চেষ্টা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই গান নতুন কোনো আশার বার্তা তৈরি করবে না কিংবা হারিয়ে যাওয়া শিশুদের ফিরিয়ে আনতে পারবে না। তবে এটি একটি স্মৃতি হয়ে থাকবে, যা মানুষকে ভাবতে বাধ্য করবে। তার মতে, পৃথিবী থেকে যেসব “ফুল” অকালে ঝরে গেছে, তারা হয়তো অন্য নামে আবার ফিরে আসবে—এই কল্পনাই তাকে অনুপ্রাণিত করেছে।
সংগীত পরিচালক অটামনাল মুন জানান, এই প্রকল্পটি কোনো পেশাদার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সম্পূর্ণ মানবিক অনুভূতি থেকে করা হয়েছে। শেখ রানার গীতিকবিতার সঙ্গে তার কাজের সম্পর্ক আগেই তৈরি হয়েছিল, এবং সেই সূত্র ধরেই এই গানটি তৈরি হয়। তিনি এটিকে একটি মানবিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে দেখছেন।
গায়ক মুসাফির আরিয়ান বলেন, একজন বাবা হিসেবে এবং একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে তিনি চেষ্টা করেছেন গানের প্রতিটি শব্দকে অনুভব করে সুরে প্রকাশ করতে। তার মতে, গানটি কেমন হয়েছে, সেটি শ্রোতারাই ভালোভাবে মূল্যায়ন করতে পারবেন।
“নতুন ফুলের গান” বর্তমানে গীতিকবির ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেলে শোনা যাচ্ছে। প্রকাশের পর থেকেই এটি অনলাইন শ্রোতাদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এবং অনেকেই এটিকে একটি আবেগঘন সামাজিক বার্তা হিসেবে দেখছেন।
সব মিলিয়ে, “নতুন ফুলের গান” শুধু একটি সংগীত নয়, বরং সমাজের একটি বাস্তব চিত্রকে শিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরার একটি প্রচেষ্টা। শিশুদের প্রতি ভালোবাসা, তাদের নিরাপত্তা এবং হারানোর বেদনা—সবকিছু মিলিয়ে গানটি একটি গভীর মানবিক আবেদন তৈরি করেছে।
কসমিক ডেস্ক