গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান (কিরণ), তার পরিবার এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ৪১টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের ভিত্তিতে আদালত এই নির্দেশ দিয়েছেন। দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ জানান, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।
দুদকের উপপরিচালক আলমগীর হোসেন উল্লেখ করেন, এই ৪১টি ব্যাংক হিসাবের মধ্যে ৩৭ লাখ ২৫ হাজার ৯৩৪ টাকা জমা রয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, আসাদুর রহমান কিরণ, তার পরিবার ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিতে অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক পরিমাণ অর্থ জমা রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে এই অর্থ উপার্জন করেছেন।
দুদক আশা করছে, অবরুদ্ধকৃত হিসাবগুলো থেকে অর্থ বিদেশে পাচার বা গোপন করার সম্ভাবনা কমবে। আদালতও বিবেচনা করেছেন যে, অভিযুক্তরা যে কোনো সময় এই টাকা হস্তান্তর বা গোপন করার চেষ্টা করতে পারেন। তাই নিরাপত্তার জন্য ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করা অপরিহার্য।
আদালতের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আসাদুর রহমান কিরণ এবং তার পরিবারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক কর্মকাণ্ডে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। এটি দুদকের তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে এবং অনিয়ম ও দুর্নীতির সত্যতা নির্ধারণে সহায়তা করবে।
দুদক বলেছে, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আরও অনুসন্ধান এবং বৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবৈধ অর্থের উৎস এবং হস্তান্তরের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এই পদক্ষেপটি বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের আর্থিক স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতিবিরোধী প্রচেষ্টাকে আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধ থাকায় কিরণ ও তার পরিবারের সদস্যরা তাতে থাকা অর্থ ব্যবহার করতে পারছেন না। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও তদন্তের পরবর্তী ধাপ শুরু হবে। আদালতের এই পদক্ষেপ দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জগতেও গুরুত্ব বহন করছে, বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতা ও আর্থিক স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে।
সব মিলিয়ে, গাজীপুরের সাবেক মেয়র কিরণ ও তার পরিবারের ৪১টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার এই পদক্ষেপটি দেশের দুর্নীতি দমন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দুদক তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কসমিক ডেস্ক