বমি-ডায়রিয়ার পর মৃত্যু—তদন্তে মিলছে না তরমুজের যোগসূত্র The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বমি-ডায়রিয়ার পর মৃত্যু—তদন্তে মিলছে না তরমুজের যোগসূত্র

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 2, 2026 ইং
বমি-ডায়রিয়ার পর মৃত্যু—তদন্তে মিলছে না তরমুজের যোগসূত্র ছবির ক্যাপশন:

ভারতের মুম্বাই শহরে একই পরিবারের চার সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। প্রথমদিকে বিষাক্ত তরমুজ খাওয়ার গুজব ছড়ালেও তদন্তে উঠে আসছে ভিন্ন তথ্য, যা ঘটনাটিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ দোখাডিয়া তার পরিবার ও আত্মীয়দের নিয়ে একসঙ্গে নৈশভোজ করেন। ওই রাতেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তরমুজ খাওয়ার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।

রাত আনুমানিক ১টার দিকে তরমুজ খাওয়ার পরপরই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বমি ও ডায়রিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। দ্রুত তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মৃত্যু হয় আবদুল্লাহ দোখাডিয়া, তার স্ত্রী নাসরিন এবং তাদের দুই কিশোরী কন্যা জয়নাব ও আয়েশার।

ঘটনার পরপরই এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ধারণা করেন, তরমুজে বিষক্রিয়ার কারণেই এই মৃত্যু ঘটেছে। তবে প্রাথমিক ফরেনসিক পরীক্ষায় চিকিৎসকরা এমন কিছু তথ্য পান, যা সাধারণ খাদ্যে বিষক্রিয়ার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।

পরীক্ষায় দেখা যায়, মৃতদের মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র ও অন্ত্রসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ অস্বাভাবিকভাবে সবুজাভ হয়ে গেছে। এই ধরনের পরিবর্তন সাধারণ খাদ্যে বিষক্রিয়ার ক্ষেত্রে সচরাচর দেখা যায় না, যা তদন্তকারীদের আরও সন্দিহান করে তোলে।

তদন্তে সবচেয়ে বড় মোড় আসে যখন আবদুল্লাহ দোখাডিয়ার শরীরে মরফিন-এর উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। এটি একটি শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধ, যা সাধারণত চিকিৎসার প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়। তবে কীভাবে এটি তার শরীরে প্রবেশ করল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।

তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এটি চিকিৎসাজনিত কোনো প্রয়োগ ছিল কিনা, নাকি অন্য কোনোভাবে শরীরে প্রবেশ করেছে। একই সঙ্গে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের শরীরেও অনুরূপ কোনো পদার্থ ছিল কিনা, সেটিও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, মুম্বাইয়ের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তরমুজের সঙ্গে এই মৃত্যুর সরাসরি কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, ওইদিন নৈশভোজে খাসির পোলাওসহ অন্যান্য খাবার খাওয়ার পর সবাই সুস্থ ছিলেন, যা তরমুজকেই একমাত্র কারণ হিসেবে সন্দেহ করার বিষয়টিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

এ ঘটনায় পুলিশ একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে এবং বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। পারিবারিক বা ব্যবসায়িক শত্রুতা, ইচ্ছাকৃত বিষ প্রয়োগ বা অন্য কোনো বিষাক্ত পদার্থের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফরেনসিক রিপোর্ট পুরোপুরি না পাওয়া পর্যন্ত এই ঘটনার চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তাই গুজব বা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।


⚠️ শেষ কথা

মুম্বাইয়ের এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে গুজব ছড়ানো কতটা বিভ্রান্তিকর হতে পারে। সঠিক তদন্ত রিপোর্টের আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। এই রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে এখন সবার নজর তদন্তের দিকে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
পাখি শিকার করায় কুড়িগ্রামে যুবকের এক বছরের কারাদন্ড

পাখি শিকার করায় কুড়িগ্রামে যুবকের এক বছরের কারাদন্ড