মিরপুরে বৃষ্টির পর খেলা শুরু হলেও বাংলাদেশ দলের জন্য যেন আরেক ধরনের ‘উইকেট বৃষ্টি’ নেমে আসে। একের পর এক উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত মাত্র ১০২ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল।
তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল-এর বিপক্ষে এই হতাশাজনক স্কোর দাঁড় করায় স্বাগতিকরা। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি ১৫ ওভারে নামিয়ে আনা হলেও নির্ধারিত ওভার শেষ হওয়ার আগেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের শুরুটা মোটেও স্থিতিশীল ছিল না। বৃষ্টির আগে ও পরে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি। ব্যাটারদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং প্রতিপক্ষের নিয়ন্ত্রিত বোলিং—দুইয়ের মিলিত প্রভাবে বড় জুটি গড়ে ওঠেনি কোনো পর্যায়েই।
ইনিংসের সর্বোচ্চ জুটিটি আসে চতুর্থ উইকেটে, যেখানে লিটন দাস এবং তাওহিদ হৃদয় মিলে করেন ২৮ রান। কিন্তু এই জুটিও দলকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যেতে পারেনি।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দিক থেকে একমাত্র লড়াই করেছেন তাওহিদ হৃদয়, যিনি ৩৩ রান করে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ স্কোরার হন। তার বাইরে লিটন দাস করেন ২৬ রান এবং সাইফ হাসান যোগ করেন ১৬ রান। বাকি ব্যাটাররা কেউই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।
বৃষ্টির কারণে খেলা থামার সময় ৬.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৫০ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু বিরতির পর চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। শেষ ৭ উইকেট পড়ে মাত্র ৫২ রানের ব্যবধানে, যা ব্যাটিং ধসের প্রকট চিত্রই তুলে ধরে।
প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ডের বোলাররা শুরু থেকেই চাপ ধরে রাখেন। বিশেষ করে জশ ক্লার্কসন ছিলেন সবচেয়ে সফল, তিনি একাই তুলে নেন ৩টি উইকেট। তার নিয়ন্ত্রিত বোলিং বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে ফেলে দেয়।
ম্যাচের এমন পরিস্থিতিতে ১০২ রানের লক্ষ্য খুব একটা বড় চ্যালেঞ্জ নয় নিউজিল্যান্ডের জন্য। ফলে ম্যাচে ফিরে আসতে হলে বাংলাদেশকে বোলিংয়ে অসাধারণ কিছু করতে হবে।
সব মিলিয়ে, মিরপুরের এই ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য হতাশার আরেকটি অধ্যায় হয়ে থাকল। ব্যাটিং লাইনআপের ধারাবাহিক ব্যর্থতা আবারও চোখে পড়ল, যা ভবিষ্যৎ ম্যাচগুলোর আগে দলের জন্য বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কসমিক ডেস্ক