মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় না যাওয়ার কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নীতি ও চাপের কারণে পারস্পরিক আস্থা নষ্ট হয়েছে, তাই কোনো ধরনের আলোচনায় বসার পরিবেশ এখন নেই।
রবিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা Islamic Republic of Iran Broadcasting–এর বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম CNN জানায়, পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী Shehbaz Sharif–এর সঙ্গে এক ফোনালাপে এই অবস্থান তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের “বৈরী আচরণ ও অপারেশনাল চাপ” চলতে থাকলে কোনো অগ্রগতি সম্ভব নয়। তার ভাষায়, ওয়াশিংটনের চলমান পদক্ষেপ শুধু আস্থার সংকটই তৈরি করছে না, বরং যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সংলাপের পথকেও আরও জটিল করে তুলছে।
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, আলোচনার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হলে প্রথমেই যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের “অপারেশনাল বাধা” বন্ধ করতে হবে। বিশেষ করে ইরানের জাহাজ চলাচল ও বন্দর কার্যক্রমে আরোপিত সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়ার দাবি জানান তিনি। তার মতে, এসব পদক্ষেপ না থামালে কোনো ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আশ্বস্ত করেছেন যে ইসলামাবাদ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi–এর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সম্প্রতি ইসলামাবাদ সফর শেষ করে ওমানের রাজধানী মস্কটে পৌঁছেছে। সেখানে আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ইরান ও পাকিস্তান উভয় পক্ষই পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে একমত হয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই দেশ গুরুত্বারোপ করে।
এছাড়া ফিলিস্তিন ও লেবাননের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়, যেখানে পাকিস্তানের অবস্থানের প্রশংসা করেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তবে কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এই খবরে যে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত ও উচ্চপর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তার ইসলামাবাদ সফর শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনারই একটি অংশ।
সব মিলিয়ে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আবারও চরম অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। আলোচনার পথ বন্ধ হলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক