পঞ্চগড়ের সদর উপজেলায় পানিতে ডুবে দুই ভাই-বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (৩১ মে) উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের কেকুপাড়া এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
নিহত দুই শিশু হলো আসিফ (১১) ও সাথী আক্তার (৯)। তারা একই পরিবারের সন্তান এবং তাদের বাবা আইজুল ইসলাম আগে মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর থেকে দুই ভাই-বোন তাদের মা আছিয়া খাতুনের সঙ্গে বসবাস করছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন আছিয়া খাতুন। তিনি দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ঘটনার দিনও প্রতিদিনের মতো সকালে সন্তানদের বাড়িতে রেখে কাজে চলে যান তিনি।
দিনের শেষে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে এসে মা দেখতে পান তার দুই সন্তান ঘরে নেই। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় খোঁজাখুঁজি শুরু করা হয়। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরে দুই শিশুর নিথর মরদেহ পাওয়া যায়।
স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করলেও ততক্ষণে দুই শিশুর মৃত্যু ঘটে যায়। এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক শোকের ছায়া ফেলেছে। একইসঙ্গে দরিদ্র পরিবারের ওপর নেমে এসেছে গভীর শোক ও অসহায়ত্ব।
গ্রামবাসীরা জানান, পুকুরটি বাড়ির খুব কাছেই অবস্থিত ছিল এবং শিশুরা প্রায়ই সেখানে খেলাধুলার জন্য যেত। তবে কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে এটি পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
Panchagarh Sadar Police Station পুলিশ জানায়, ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে। তবে এটি একটি দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করে প্রাথমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয়রা শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বাড়ির পাশে খোলা পুকুর ও জলাশয় শিশুদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে বলে তারা মন্তব্য করেন।
শিশুদের অকাল মৃত্যুতে পুরো কেকুপাড়া গ্রামে শোকের আবহ বিরাজ করছে। প্রতিবেশীরা জানান, পরিবারটি ইতোমধ্যে আর্থিকভাবে দুর্বল ছিল, তার ওপর এই ঘটনা তাদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
স্থানীয়দের মতে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুকুর বা জলাশয়ের চারপাশে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। নইলে এ ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটার আশঙ্কা থাকে।
সব মিলিয়ে, পঞ্চগড়ের এই ঘটনা আবারও গ্রামীণ এলাকায় শিশু নিরাপত্তার দুর্বলতা এবং নজরদারির অভাবকে সামনে নিয়ে এসেছে।
কসমিক ডেস্ক