দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানের চেন্নাইয়ের বাড়িতে বোমা হামলার হুমকি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। পরে পুলিশের তদন্তে এটি ভুয়া বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে। ওই সময় তামিলনাড়ু পুলিশের কন্ট্রোল রুমে একাধিক ইমেইল পাঠানো হয়, যেখানে দাবি করা হয় যে তৃষার বাসভবনে শক্তিশালী বোমা রাখা হয়েছে। ইমেইলে আরও উল্লেখ করা হয়, যেকোনো সময় ওই বোমার বিস্ফোরণ ঘটতে পারে, যা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুতর করে তোলে।
হুমকির বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ এবং বোম ডিসপোজাল স্কোয়াডের (বিডিডিএস) একটি বিশেষ দল। নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে বাড়ি এবং আশপাশের এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে সহায়তা করার জন্য স্নিফার ডগও ব্যবহার করা হয়।
কয়েক ঘণ্টাব্যাপী এই তল্লাশি কার্যক্রমে বাড়ির প্রতিটি অংশ এবং আশপাশের এলাকা খুঁটিয়ে দেখা হয়। তবে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর কোনো ধরনের সন্দেহজনক বস্তু বা বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে, যদিও ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যায়।
পরবর্তীতে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, এটি একটি ভুয়া হুমকি বা ‘হোক্স’ কল। অর্থাৎ, বাস্তবে কোনো বোমা বা বিস্ফোরকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টিকে হালকাভাবে নিচ্ছে না প্রশাসন। কারণ, একই ধরনের ঘটনা এর আগেও ঘটেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর রাতেও তৃষা কৃষ্ণানের বাসভবনকে লক্ষ্য করে একই ধরনের বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সেবারও ব্যাপক তল্লাশির পর কোনো বিপজ্জনক কিছু পাওয়া যায়নি। বারবার একই ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে এ ধরনের হুমকি আসায় বিষয়টি এখন আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
কে বা কারা এই ভুয়া ইমেইলগুলো পাঠাচ্ছে, তা শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে সাইবার ক্রাইম বিভাগ তদন্ত শুরু করেছে। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে হুমকিদাতাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। প্রশাসন আশা করছে, দ্রুতই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
এদিকে, এই ঘটনার মধ্যেও নিজের পেশাগত ব্যস্ততা চালিয়ে যাচ্ছেন তৃষা কৃষ্ণান। বর্তমানে তিনি নতুন একটি চলচ্চিত্রের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে, একদিকে যেমন নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে তৃষার পেশাগত কার্যক্রমও সমানতালে এগিয়ে চলছে।