রাজধানীর মিরপুর এলাকায় সংঘটিত দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী-কে আবারও চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত এই মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন এবং এতে নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে রিমান্ড আবেদন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলাম-এর আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। এর আগে তৃতীয় দফায় মোট ১১ দিনের রিমান্ড শেষে অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিন পুনরায় চার দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, তদন্তের স্বার্থে আসামিকে বিভিন্ন দিক থেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং এতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য মামলার তদন্তে সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলে জানানো হয়। তদন্ত এখনও চলমান থাকায়, আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্য অতিরিক্ত রিমান্ড প্রয়োজন বলে আবেদন করা হয়।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম সজীব রিমান্ড বাতিলের আবেদন জানান এবং তার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এই আবেদনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সংঘর্ষের মধ্যে বিভিন্ন দিক থেকে গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তাকে প্রথমে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয় এবং পরে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই বছরের ২১ জুলাই সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে দেলোয়ার হোসেন মারা যান। এই ঘটনায় ২০২৫ সালের ৬ জুলাই নিহতের স্ত্রী মোছা. লিজা বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গত ২৩ মার্চ দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে আটক করা হয়। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহে কাজ করছে। নতুন করে মঞ্জুর হওয়া এই রিমান্ডের মাধ্যমে তদন্তে আরও অগ্রগতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই ঘটনাটি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিচার প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ পেতে পারে।