নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় কালবৈশাখীর তাণ্ডবে একটি বিদ্যালয়ের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে তিন শিশু শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বিদ্যালয়টির আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
ঘটনাটি ঘটে কালিয়া উপজেলা-এর মির্জাপুর এলাকায় অবস্থিত মির্জাপুর শামছুর নাহার কেজি স্কুলে। ওই সময় বিদ্যালয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা চলছিল। হঠাৎ করে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
শিক্ষক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঝড়ের তীব্রতায় বিদ্যালয়ের পেছনে থাকা একটি নারকেলগাছ ভেঙে পড়ে সরাসরি স্কুলের টিনের চালের ওপর। টিন ও বাঁশের তৈরি এই বিদ্যালয় ভবনটি গাছের আঘাতে ভেঙে পড়ে এবং ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীরা আহত হয়।
এই ঘটনায় তিনজন শিশু শিক্ষার্থী আহত হয়। তাদের মধ্যে আবু সাঈদ (৮) ও সিয়াম শেখ (১১)-কে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহত শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
একজন অভিভাবক আবু হাসান জানান, ঝড় শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই স্কুলের পেছনের নারকেলগাছটি উপড়ে পড়ে। এ সময় ভেতরে থাকা শিশুদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে আসেন এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইজাজ মাহমুদ গাজী বলেন, হঠাৎ ঝড়ে গাছ ভেঙে পড়ায় বিদ্যালয়ের টিনের চাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তিনি বলেন, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।
ঘটনার পরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিন্নাতুল ইসলাম জানান, ঝড়ে গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীরা আহত হয়েছে বলে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো হয়। তিনি বলেন, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, অনেক বিদ্যালয় এখনও টিন ও বাঁশের তৈরি হওয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা নিরাপদ ও টেকসই ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কালবৈশাখীর মতো আকস্মিক ঝড়ে দুর্বল অবকাঠামো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণ এবং স্কুল ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
সব মিলিয়ে, নড়াইলের এই ঘটনা আবারও প্রাকৃতিক দুর্যোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক