ঢাকার ডেমরা এলাকায় একটি কালি তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আমুলিয়া মডেল টাউন এলাকার একটি টিনশেড কারখানায় এই আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। প্রাথমিকভাবে ডেমরা ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও দুটি ইউনিট পাঠানো হয়, ফলে মোট চারটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা জানান, আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় আশপাশের এলাকা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত ইউনিটও প্রস্তুত রাখা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কারখানাটি টিনশেড হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে ভেতরে থাকা কাঁচামাল ও কালি উৎপাদনের উপকরণে আগুন দ্রুত বিস্তার লাভ করে। ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ঘটনার পর আশপাশের এলাকাবাসী নিরাপত্তার কারণে দূরে সরে যান। কেউ কেউ দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ঘরবাড়ি ও দোকান থেকে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র সরিয়ে নেন।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে পানি ও ফোম ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি আগুন যাতে পাশের ভবন বা অন্যান্য স্থাপনায় ছড়িয়ে না পড়ে সে বিষয়েও সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এলে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানানো হবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
ডেমরা এলাকায় মাঝেমধ্যে শিল্পকারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও টিনশেড ও অস্বাস্থ্যকর গুদামজাত ব্যবস্থার কারণে এসব আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। তারা নিয়মিত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের টিম আগুন নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এলে তদন্তের মাধ্যমে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক