চট্টগ্রাম শহর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘পানিতে ভেসে যাওয়ার’ ভিডিও ও গুজবকে অস্বীকার করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, বাস্তবে চট্টগ্রাম শহর স্বাভাবিক অবস্থাতেই রয়েছে এবং অতিবৃষ্টির কারণে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও দ্রুত পানি নিষ্কাশন হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন জলাবদ্ধতা এলাকা পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং চসিকের সচিব আশরাফুল আমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ধরনের ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে, সেখানে চট্টগ্রাম শহর পানিতে ভাসছে বলে দেখানো হলেও বাস্তবে এমন পরিস্থিতি হয়নি। তার ভাষায়, “চট্টগ্রাম শহর সুন্দর আছে, আগে যেমন ছিল এখনো তেমনই আছে। শুধু অতিবৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় সাময়িক পানি জমেছিল।”
তিনি আরও জানান, প্রবর্তক এলাকায় প্রায় ৩০ ফুট জায়গায় পানি জমে থাকলেও তিনি নিজে হেঁটে সেই এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। দ্রুত পানি নেমে গেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যা দীর্ঘদিনের। এ সমস্যা সমাধানে ৩৬টি খাল সংস্কার ও পরিষ্কারের একটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রকল্পটি মূলত চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অধীনে শুরু হলেও প্রকৌশল সংকটের কারণে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা একাধিকবার বাড়ানোর বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০১৬ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি প্রথমে ২০১৯ সালের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। পরে ২০২২ সাল পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। কিন্তু কাজ শেষ না হওয়ায় তা ২০২৪ সাল পর্যন্ত এবং সর্বশেষ ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সময় বৃদ্ধির সঙ্গে প্রকল্প ব্যয়ের পরিমাণও বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, ৩৬টি খালের মধ্যে ইতোমধ্যে ৩০টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি পাঁচটি খালের কাজ এমন পর্যায়ে আছে, যা পানি প্রবাহে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করবে না। প্রবর্তক এলাকায় হিজরা খালের কাজ চলমান রয়েছে, যেখানে স্টিল স্ট্রাকচার বসিয়ে সাময়িক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে।
তিনি জানান, এই খালের কাজ ১৫ মে’র মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। তবে আকস্মিক অতিবৃষ্টি ও বর্ষা মৌসুমের আগমনের কারণে কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে কিছু এলাকায় দুই-একদিন মানুষের ভোগান্তি হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
তবে প্রতিমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, বর্তমানে পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক হয়েছে এবং আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে স্টিল স্ট্রাকচার সরিয়ে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ পুনরায় চালু করা হবে।
চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। প্রতি বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তবে সরকার ও সিটি করপোরেশন একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিলেও বাস্তবায়নের ধীরগতি নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে—একদিকে তিনি পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক বলছেন, অন্যদিকে নগরবাসীর অভিজ্ঞতায় জলাবদ্ধতার ভোগান্তি স্পষ্ট। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক