মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফিফার ‘পিস প্রাইজ’ বা শান্তি পুরস্কার প্রদানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচনার মুখে এবার সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে হোয়াইট হাউস, যেখানে বলা হয়েছে—এই পুরস্কারের জন্য ট্রাম্পের চেয়ে বেশি যোগ্য ব্যক্তি পৃথিবীতে আর নেই।
গত ডিসেম্বর বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা প্রথমবারের মতো এই শান্তি পুরস্কার প্রদান করে। ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে শান্তি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ট্রাম্পকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। তবে ঘোষণার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।
মানবাধিকার সংগঠন ও বিভিন্ন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা এই সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন। তাদের মতে, এমন একটি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে পুরস্কৃত করা ফিফার মানবাধিকার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অনেকেই দাবি করেন, এটি ফুটবলের নিরপেক্ষ অবস্থানকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বিতর্ক আরও বাড়ে যখন অস্ট্রেলিয়ার ফুটবলার জ্যাকসন আরভিন প্রকাশ্যে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ফিফার মানবাধিকার নীতিকে সামনে রেখে ফুটবলকে ইতিবাচক পরিবর্তনের শক্তি হিসেবে তুলে ধরার যে প্রচেষ্টা রয়েছে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত তা দুর্বল করে দেয়।
একইভাবে নরওয়ের ফুটবল ফেডারেশনও পুরস্কার নিয়ে আপত্তি জানায়। সংস্থাটির সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস বলেন, ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতি ভঙ্গ করে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে এবং এটি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
এমন সমালোচনার প্রেক্ষিতে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া আসে। মুখপাত্র ডেভিস ইংলে এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্পের ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি’ নীতি এক বছরেরও কম সময়ে আটটি সংঘাতের অবসান ঘটিয়েছে বলে দাবি করা হয়। তার মতে, এই কারণে ফিফার প্রথম পিস প্রাইজ পাওয়ার জন্য ট্রাম্পই সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি।
তিনি সমালোচকদের উদ্দেশে বলেন, যারা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন, তারা ‘ট্রাম্প ডিরেঞ্জমেন্ট সিনড্রোমে’ ভুগছেন।
তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা হোয়াইট হাউসের এই দাবির সঙ্গে একমত নন। তারা সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক পদক্ষেপ ও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এই শান্তির দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
বিশেষ করে ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর নাম ঘোষণার পরপরই ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান এবং পরে ইরানে যৌথ বিমান হামলার মতো ঘটনা এই বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং ট্রাম্পের মধ্যে সুসম্পর্ক এই পুরস্কার প্রদানে ভূমিকা রাখতে পারে, যদিও ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে তা স্বীকার করেনি।
অন্যদিকে ট্রাম্প নিজেও অতীতে একাধিকবার আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্যতা দাবি করেছেন।
সব মিলিয়ে, ফিফার এই ‘শান্তি পুরস্কার’ এখন শুধু একটি ক্রীড়া সংক্রান্ত সম্মাননা নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতি, ফুটবল প্রশাসন এবং মানবাধিকার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক