দেশে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ব্যাংকিং কার্যক্রমে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সরকারের ঘোষিত পরিবর্তিত অফিস সময়ের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
শনিবার (৪ এপ্রিল) জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে নতুন এই সময়সূচি কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব তফসিলি ব্যাংক এই সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
নতুন সময়সূচি অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর লেনদেন ও অফিস কার্যক্রম নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, যাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয় আনা যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, এই পদক্ষেপ দেশের সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তবে সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থিত ব্যাংক শাখাগুলোর ক্ষেত্রে পূর্বের নিয়ম বহাল থাকবে। এসব শাখা সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। এ বিষয়ে ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট জারি করা সার্কুলারের নির্দেশনা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
এদিকে শুধু ব্যাংকিং খাত নয়, দেশের সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময়সূচিও পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী রোববার থেকে সব অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পরিচালিত হবে।
এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, জ্বালানি সাশ্রয় ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি আরও কিছু নির্দেশনার কথাও উল্লেখ করেন।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সব শপিং মল ও দোকানপাট সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। এছাড়া বিয়ে বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা পরিহারের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে, যাতে বিদ্যুৎ অপচয় কমানো যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এমন পদক্ষেপ সময়োপযোগী হলেও এর প্রভাব বিভিন্ন খাতে ভিন্নভাবে পড়তে পারে। বিশেষ করে ব্যাংকিং ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সময়সূচির সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
সব মিলিয়ে, সরকারের এই উদ্যোগ দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন ও জনসচেতনতার ওপর।
কসমিক ডেস্ক