সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল। তার দাবি, ভুয়া সীমানা প্রাচীর দেখিয়ে প্রায় ৬৪ লাখ টাকা বিল উত্তোলন করা হয়েছে এবং সরকারি তহবিল থেকে আপ্যায়ন খরচ বাবদ বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা একটি ভিডিও বক্তব্যে মাসুদ কামাল এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন। ভিডিওটি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
মাসুদ কামাল তার বক্তব্যে বলেন, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ব্যয় কাঠামোর সঙ্গে তুলনা করলে এ ধরনের ব্যয় অনেক বেশি বলে মনে হয়। তিনি দাবি করেন, যেখানে সাধারণ প্রশাসনিক ব্যয় তুলনামূলকভাবে সীমিত, সেখানে একজন উপদেষ্টার দপ্তরে আপ্যায়ন খরচ এক লক্ষ ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
তিনি আরও বলেন, এসব অভিযোগ যদি সত্য না হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সম্মানিত হবেন। আর যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে জনগণের অর্থ অপচয়ের দায়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তার মতে, জনগণের করের টাকার ব্যবহার নিয়ে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি এবং সন্দেহের অবসান হওয়া প্রয়োজন।
ভিডিও বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, “আমরা সিদ্ধান্তে আসতে চাই যে এই লোকগুলো কেমন—তারা কি সত্যিই অনিয়মে জড়িত, নাকি সম্পূর্ণ নির্দোষ।” তার এ ধরনের মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো নিশ্চিত নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি ব্যয় এবং উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে অভিযোগ নতুন কিছু নয়, তবে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া এমন বক্তব্য রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক বাড়াতে পারে। তারা মনে করেন, এ ধরনের অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কেউ কেউ অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের দাবি তুলেছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য বলেও মন্তব্য করছেন।
সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, যেকোনো অভিযোগ প্রমাণ সাপেক্ষে দেখা উচিত, যাতে জনমনে বিভ্রান্তি না ছড়ায়।
সব মিলিয়ে, মাসুদ কামালের এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি করেছে। এখন বিষয়টি তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার দিকে নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ মানুষ।
কসমিক ডেস্ক