বিশ্বজুড়ে হিলিয়ামের তীব্র ঘাটতির মধ্যে ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগ্যাসের রপ্তানি সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাশিয়া। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মস্কোর এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক প্রযুক্তি, চিকিৎসা ও শিল্পখাতে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হিলিয়াম একটি বিরল ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস, যা সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, মেডিকেল ইমেজিং (এমআরআই), রকেট জ্বালানি, ওয়েল্ডিংসহ নানা উচ্চপ্রযুক্তি খাতে ব্যবহৃত হয়। শিল্পবিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর অর্থনীতির জন্য হিলিয়াম অপরিহার্য একটি সম্পদ।
২০২৫ সালের ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে হিলিয়াম উৎপাদনে শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের পরই রাশিয়ার অবস্থান তৃতীয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের কারণে কাতারের গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটে, যার ফলে বিশ্ববাজারে হিলিয়ামের সরবরাহ কমে যায় এবং দাম দ্রুত বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য রপ্তানি সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মস্কো-নেতৃত্বাধীন ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোতে হিলিয়াম রপ্তানির ক্ষেত্রে এখন থেকে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কঠোর তত্ত্বাবধান থাকবে। পাশাপাশি রপ্তানির জন্য প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন বা তার প্রতিনিধির সরাসরি অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
রুশ সরকার জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং শিল্প উৎপাদনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। বিশেষ করে চিকিৎসা, প্রযুক্তি এবং জ্বালানি খাতে হিলিয়ামের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে বলে তারা উল্লেখ করেছে।
রাশিয়ার এই পদক্ষেপের পেছনে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটও রয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া একাধিক কৌশলগত রপ্তানি খাতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। হিলিয়াম নিয়ন্ত্রণও সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে গত সপ্তাহে রুশ প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন জ্বালানি ও শিল্প খাতের এক বৈঠকে সতর্ক করে বলেন, বিশ্বে তেল ও গ্যাসের দামের অস্থিরতার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। এতে সেমিকন্ডাক্টর, চিকিৎসা যন্ত্র, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্যাকেজিং ও অন্যান্য প্রযুক্তি খাত ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
রাশিয়ার সবচেয়ে বড় হিলিয়াম উৎপাদন কেন্দ্র হলো গ্যাজপ্রম পরিচালিত আমুর গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট, যা চীনের সীমান্তের কাছে অবস্থিত। চীন বর্তমানে রাশিয়ার হিলিয়ামের অন্যতম বৃহৎ ক্রেতা হিসেবে বিবেচিত।
বিশ্ব অর্থনীতির এই টানাপোড়েনের মধ্যে রাশিয়ার নতুন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ হিলিয়াম বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকরা।
কসমিক ডেস্ক