ঝিনাইদহে পেট্রলপাম্পের কর্মচারীদের পিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার জেরে বিক্ষুব্ধ জনতা তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগ এবং একটি ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুর চালিয়েছে। রবিবার (৮ মার্চ) ভোররাতের দিকে শহরের আরাপপুর এলাকার সৃজনী ফিলিং স্টেশনে এ সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল এলাকায় কয়েকটি বাসে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। প্রায় আধা ঘণ্টা চেষ্টার পর তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
এ ঘটনায় তিনটি বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে স্থানীয়দের ধারণা, যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় উত্তেজিত কিছু মানুষ এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে।
এর আগে রাত ১টার দিকে একই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা আরাপপুর এলাকার সৃজনী ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুর চালায়। পেট্রলপাম্পের বিভিন্ন স্থাপনা ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ সময় এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ঘটনার বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামছুল আরেফিন বলেন, পুরো ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করা হবে। তদন্ত শেষে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নির্ধারণ করা যাবে। তিনি আরও বলেন, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বাস মালিক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক রোকোনুজ্জামান রানু। তিনি বলেন, দ্রুত দুষ্কৃতকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, একটি স্বাধীন দেশে টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড জননিরাপত্তা ও পরিবহন ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করে।
এর আগে শনিবার (৭ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল এলাকার তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে একটি বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের জেরে পেট্রলপাম্পের কয়েকজন কর্মচারী ফারদিন আহমেদ নিরব নামের এক যুবককে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলে তিনি মারা যান বলে জানা গেছে। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং পরে বিক্ষুব্ধ জনতার মধ্যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর থেকে এলাকাজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চালানো হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংস ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কসমিক ডেস্ক