ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া-মমতাজ মিয়া সড়কের দুই পাশে লাগানো গাছ টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই কেটে নেওয়ার অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই গাছগুলো কোনো সরকারি নিলাম বা অনুমোদন ছাড়াই প্রভাবশালীরা কেটে নিয়ে যাচ্ছে, যা পরিবেশ ও আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লেমুয়া ব্রিজ থেকে মমতাজ মিয়া হয়ে ধলিয়া পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি। তবে উদ্বোধনের পরপরই গাছ কাটার ঘটনা শুরু হয়, এবং অভিযোগ ওঠে—এ কাজে কোনো টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
অভিযোগে যাদের নাম এসেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। এলাকাবাসীর ভাষ্য, তারা ব্যক্তি মালিকানার দাবি দেখিয়ে গাছগুলো কেটে নিচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবে এসব গাছ বহু বছর আগে সামাজিক উদ্যোগে লাগানো হয়েছিল।
স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন রংধনু সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংঘ জানিয়েছে, ২০০৩ সালে তাদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে এই গাছগুলো লাগানো হয়। সংগঠনের সভাপতি শামছুদ্দীন চৌধুরী মানিক বলেন, কোনো টেন্ডার ছাড়াই গাছ কেটে নেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত। একই কথা বলেন সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ নিজাম উদ্দীনও। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের পরিচর্যায় বেড়ে ওঠা এই গাছগুলো এখন লাখ লাখ টাকার সম্পদে পরিণত হয়েছিল।
এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। লেমুয়া ইউনিয়নের একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, কিছু অসাধু চক্র ব্যক্তি মালিকানার অজুহাতে গাছ কাটছে। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো সরকারি নথি এখনো উপস্থাপন করা হয়নি।
ঘটনার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো এই গাছ কাটার বিষয়ে কোনো ধরনের অনুমোদন বা টেন্ডারের তথ্য জানে না। সামাজিক বন বিভাগের ফেনী সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র ভৌমিক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাদের দপ্তর থেকে এ ধরনের কোনো টেন্ডার দেওয়া হয়নি। একইভাবে এলজিইডি ও ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষও বিষয়টি সম্পর্কে অজ্ঞতার কথা জানিয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, গাছ কাটার বিষয়ে তারা অবগত ছিলেন না। লেমুয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, কে বা কারা গাছ কেটে নিচ্ছে তা তদন্ত করে দেখা হবে এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, এভাবে পরিকল্পনাহীনভাবে গাছ কেটে ফেলা হলে তা স্থানীয় পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। রাস্তার পাশের গাছ শুধু সৌন্দর্য বাড়ায় না, বরং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, বায়ু পরিশোধন এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে গাছ কাটার আগে যথাযথ নিয়ম ও পরিবেশগত মূল্যায়ন জরুরি।
সব মিলিয়ে, ফেনীর এই ঘটনা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কসমিক ডেস্ক