যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন শফিকুল আলম The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন শফিকুল আলম

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 29, 2026 ইং
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন শফিকুল আলম ছবির ক্যাপশন:

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) চুক্তি নিয়ে চলমান আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন সিনিয়র সাংবাদিক ও সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব Shafiqul Alam। একটি টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি চুক্তি স্বাক্ষর, অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।

এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পালটা শুল্ক কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। পূর্বে নির্ধারিত ২০ শতাংশ শুল্ক কমে ১৯ শতাংশে নেমে আসে, যা রপ্তানিকারকদের জন্য তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক বলে বিবেচিত হচ্ছে।

চুক্তির পটভূমি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পালটা শুল্ক আরোপ করা হয়। এরপর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচনার মাধ্যমে এই শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

টকশোতে সাংবাদিক Khaled Muhyuddin প্রশ্ন তোলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব অবগত ছিল কিনা। এর জবাবে শফিকুল আলম জানান, এ ধরনের আন্তর্জাতিক চুক্তি অবশ্যই ক্যাবিনেটে অনুমোদনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

তিনি বলেন, “যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে ক্যাবিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন। এমনকি ছোটখাটো চুক্তির ক্ষেত্রেও এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। তাই এ চুক্তিটিও অনুমোদিত হয়েছে বলেই আমার জানা।”

চুক্তি নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল—নির্বাচনের আগে দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছিল কিনা। এ প্রসঙ্গে শফিকুল আলম সরাসরি কোনো নিশ্চিত মন্তব্য না করলেও বলেন, যারা এই চুক্তির আলোচনায় যুক্ত ছিলেন, তারাই এ বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে পারবেন।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রধান বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি সরকারপ্রধানকে অবহিত করতে পারেন। এটি একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। তবে প্রতিটি বিষয় ক্যাবিনেটে আলোচনা হবে, এমন বাধ্যবাধকতা সব ক্ষেত্রে থাকে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

চুক্তি নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার একটি দিক হলো—এটি দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য কতটা উপযোগী। কিছু মহল এই চুক্তির বিরোধিতা করলেও সরকার বলছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক বাস্তবতা বিবেচনায় এটি একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

এই আলোচনায় উঠে আসে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা Muhammad Yunus-এর ভূমিকার বিষয়টিও। তিনি চুক্তি সম্পর্কে অবগত ছিলেন কিনা—এই প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, যেহেতু বিষয়টি ক্যাবিনেটে এসেছে, তাই অবগত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

সব মিলিয়ে, এআরটি চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চললেও শফিকুল আলমের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, এটি একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হয়েছে। তবে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে এর প্রভাব নিয়ে বিতর্ক এখনো অব্যাহত রয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
নাটোরে রাজনৈতিক বিরোধে কুপিয়ে জখম, আসামি ধরতে অভিযান

নাটোরে রাজনৈতিক বিরোধে কুপিয়ে জখম, আসামি ধরতে অভিযান