ছাত্র রাজনীতির অর্থায়ন এবং রাষ্ট্রীয় তহবিল ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একটি ইউটিউব চ্যানেলের বিশ্লেষণভিত্তিক আলোচনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা রিফাত রশিদ এবং একটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কোটি টাকার অর্থ লেনদেন নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
বিশ্লেষণমূলক ওই আলোচনায় দাবি করা হয়, ২০২৬ সালের ২৩ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের তৎকালীন মুখপাত্র সিন্থিয়া জাহিন আয়েশা প্রায় এক কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। সেখানে তিনি বলেন, গণভোট প্রচারণার নামে অর্থ লেনদেন ও ব্যয়ের বিষয়ে স্বচ্ছতা ছিল না।
অভিযোগ অনুযায়ী, এই অর্থ ব্যবহারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠন হিসেবে সেড ফাউন্ডেশন-এর নাম উঠে এসেছে। দাবি করা হয়, সংগঠনটি কোনো আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন বা দীর্ঘ কার্যক্রমের ইতিহাস ছাড়াই হঠাৎ করে সামনে আসে এবং এর মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যবস্থাপনা করা হয়।
আলোচনায় আরও বলা হয়, রিফাত রশিদ এবং তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহার করে প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনার প্রশ্ন উঠেছে। সেখানে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নামও আলোচনায় আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি গণভোট প্রচারণার জন্য জনমত গঠনের উদ্দেশ্যে অর্থ ছাড় করা হয়েছিল, যার পরিমাণ প্রাথমিকভাবে কয়েক কোটি টাকা ধরা হলেও পরে এক কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়।
এই বিষয়টি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। নেটিজেনদের একাংশ প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে এত দ্রুত সময়ের মধ্যে এই অর্থ ছাড় করা হলো এবং এর পেছনে কারা অনুমোদন দিয়েছে।
পরবর্তীতে রিফাত রশিদ নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, সমস্ত খরচের অডিট রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে লক্ষ্যবস্তু করে এই অভিযোগ আনা হচ্ছে এবং বিষয়টি একটি “সাজানো বিতর্ক”।
তবে সমালোচনার মাত্রা আরও বাড়ে যখন অভিযোগ ওঠে, গণভোট প্রচারণার নামে লিফলেট, পোস্টার ও ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের জন্য বরাদ্দ অর্থ মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান ছিল না। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, আদর্শিক আন্দোলনের নামে সংগৃহীত অর্থের বাস্তব ব্যবহার কোথায় হয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে। কেউ কেউ দাবি করেন, রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও কঠোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকা প্রয়োজন।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্র রাজনীতিতে অর্থায়নের স্বচ্ছতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনো ধরনের তহবিল ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা জরুরি। কারণ এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতি মানুষের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে।
সব মিলিয়ে, রিফাত রশিদ ও সেড ফাউন্ডেশনকে ঘিরে এই অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এখন রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এটি শুধু একটি আর্থিক বিতর্ক নয়, বরং ছাত্র রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।
কসমিক ডেস্ক