আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের দুই খেলোয়াড় নাহিদা আক্তার ও শারমিন সুলতানাকে শাস্তি দিয়েছে। শাস্তি হিসেবে দুই ক্রিকেটারের ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ করে জরিমানা করা হয়েছে এবং তাদের ডিসিপ্লিনারি রেকর্ডে একটি করে ডিমেরিট পয়েন্ট যোগ করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত শ্রীলঙ্কা নারী দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে। ম্যাচে কিছু আচরণগত অসঙ্গতির কারণে আইসিসির কোড অব কনডাক্ট লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে এই দুই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে।
আইসিসির বিবৃতিতে জানানো হয়, নাহিদা আক্তার আচরণবিধির ২.৫ ধারা লঙ্ঘন করেছেন। এই ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যাটার বা খেলোয়াড় আউট হওয়ার পর প্রতিপক্ষকে উসকে দেয় এমন ভাষা, অঙ্গভঙ্গি বা আচরণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অভিযোগ অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু আউট হওয়ার পর নাহিদা তাকে সাজঘরের দিকে ইঙ্গিত করে বিদায় জানান, যা খেলাধুলার নীতির পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
অন্যদিকে শারমিন সুলতানা ভঙ্গ করেছেন ২.৮ ধারা, যেখানে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করা নিষিদ্ধ। বাংলাদেশের ইনিংস চলাকালে একটি এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্তে আউট ঘোষণার পর শারমিন ব্যাট দিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং মাঠ ছাড়তে কিছুটা বিলম্ব করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এই দুই ঘটনাকে আইসিসি “লেভেল–১ অপরাধ” হিসেবে গণ্য করেছে। এ ধরনের অপরাধ সাধারণত মাঠে খেলোয়াড়দের অশোভন আচরণ, অসংযত প্রতিক্রিয়া বা প্রতিপক্ষকে উসকে দেওয়ার মতো বিষয়গুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জরিমানার পাশাপাশি উভয় খেলোয়াড়ের রেকর্ডে একটি করে ডিমেরিট পয়েন্ট যোগ করা হয়েছে। গত ২৪ মাসে এটি তাদের প্রথম আচরণবিধি লঙ্ঘন হওয়ায় শাস্তি তুলনামূলকভাবে সীমিত রাখা হয়েছে।
আইসিসি আরও জানিয়েছে, নাহিদা ও শারমিন উভয়েই তাদের দোষ স্বীকার করেছেন এবং ম্যাচ রেফারির প্রস্তাবিত শাস্তি মেনে নিয়েছেন। ফলে কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি।
ম্যাচের ফলাফলের দিক থেকে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কা নারী দল ৪ উইকেটে জয় পায় এবং সিরিজে সমতা আনে। ফলে সিরিজ আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল সাম্প্রতিক সময়ে উন্নতির পথে থাকলেও মাঠের আচরণ নিয়ে এমন শাস্তি দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলোয়াড়দের পেশাদার আচরণ বজায় রাখার বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের শাস্তি খেলোয়াড়দের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে। ভবিষ্যতে যেন আন্তর্জাতিক নিয়ম ও স্পোর্টসম্যানশিপ বজায় থাকে, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
সব মিলিয়ে এই ঘটনায় বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় সাময়িক শাস্তির মুখে পড়লেও বিষয়টি সমাধান হয়েছে আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে। এখন সবার নজর থাকবে পরবর্তী ম্যাচে তাদের পারফরম্যান্স ও শৃঙ্খলার ওপর।
কসমিক ডেস্ক