ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বিএনপি নেতারা মন্ত্রিপরিষদ গঠনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো গুঞ্জন উঠেছে যে, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর–কে রাষ্ট্রপতি পদে নিয়োগ করা হতে পারে।
বিএনপির গুলশান কার্যালয়ের এক বিশ্বস্ত সূত্র দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছে, নির্বাচিত হওয়ার পর মির্জা ফখরুল প্রথমে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। সূত্রটি আরও জানায়, খুব শিগগিরই রাষ্ট্রপতি পদে তার নিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
ভোটাভোটের বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৭২ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়েছেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক এবং জাতীয় কর্মকাণ্ড তাকে এই পদে প্রার্থী হিসেবে শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে।
৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাধীনতার সময়কাল ও পরে দেশীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। লেখাপড়া শেষ করার পর তিনি দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেছেন এবং পরবর্তীতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, অভিজ্ঞ নেতাকে রাষ্ট্রপতি পদে বসানো দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। মির্জা ফখরুলের নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতা রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে দেশের গঠনমূলক ভূমিকাকে আরও শক্তিশালী করবে।
বিএনপির মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ২০১১ সালের মার্চে মৃত্যুর পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দলের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে তিনি মহাসচিব পদে নির্বাচিত হন। এই দীর্ঘকালীন নেতৃত্ব, দলে স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাকে রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নেতৃত্ব দেশের রাজনৈতিক সমন্বয়, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ও দলীয় অঙ্গীকারের বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে, তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিমধ্যেই তার রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার প্রবাহ শুরু হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কে রাষ্ট্রপতি পদে বসানো হতে পারে—এটি দলের অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের মান এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।