সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলায় পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবাসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ওই যুবকের নাম আতিকুর রহমান (২৮)। তিনি উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের পশ্চিম নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুল্লাহ গাজীর ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (৫ এপ্রিল) তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শনিবার (৪ এপ্রিল) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার দমদম এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত তথ্য ও পুলিশের নজরদারির ভিত্তিতে ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। কালীগঞ্জ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন হিসেবে আতিকুর রহমানকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে প্যান্টের পকেট থেকে পলিথিনে মোড়ানো ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত ইয়াবাগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে বহন করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মতিন বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আতিকুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছিলেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, এই ধরনের মাদক চক্র সাধারণত সীমান্তবর্তী এলাকাকে ব্যবহার করে অবৈধভাবে মাদক সংগ্রহ করে এবং পরে তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেয়। এর ফলে স্থানীয় যুবসমাজসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ মাদকাসক্তির ঝুঁকিতে পড়ে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল হোসেন বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। মাদক নির্মূলে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন অভিযানকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন সাধারণ মানুষ। তারা মনে করছেন, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলে এলাকায় মাদকের বিস্তার কমানো সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে হলে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করাও জরুরি। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে মাদক সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিতে।
এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়রা মাদকবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।