মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (৪ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকেলে দুতা–উলু ক্লাং হাইওয়ের আয়ের পানাস টোল প্লাজা থেকে আমপাংমুখী ১০.৪ কিলোমিটার পয়েন্টে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটে একাধিক যানবাহনের সংঘর্ষের মাধ্যমে। কুয়ালালামপুর ট্রাফিক তদন্ত ও প্রয়োগকারী বিভাগের প্রধান অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার মোহাম্মদ জামজুরি মোহাম্মদ ঈসা জানান, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি লরি হাইওয়ের মাঝপথে থেমে যায়। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি মিতসুবিশি ট্রাইটন পিকআপ সেটিকে ধাক্কা দেয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই আরও একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনগুলোর ওপর সজোরে আঘাত হানে।
এই ধারাবাহিক সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান দুইজন। নিহতদের মধ্যে একজন ৫২ বছর বয়সী মালয়েশিয়ান লরি চালক এবং অন্যজন ৫৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক, যিনি পিকআপ ভ্যানটির চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তারা দুজনই নিজ নিজ গাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের তীব্রতায় তারা যানবাহনের মাঝে আটকে পড়েন এবং গুরুতর আঘাতের কারণে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে কুয়ালালামপুরের একটি হাসপাতালে পাঠান। তাদের চিকিৎসা চলছে বলে জানা গেছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, শেষের লরিটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে কী কারণে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারান, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্ট চালকের শ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষায় মদ্যপানের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তার প্রস্রাব পরীক্ষার ফলাফল এখনো পাওয়া যায়নি, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মালয়েশিয়ার সড়ক পরিবহন আইন ১৯৮৭-এর ৪১(১) ধারায় তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ণয় এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে সব ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এ ধরনের দুর্ঘটনা মালয়েশিয়ার ব্যস্ত মহাসড়কগুলোতে মাঝেমধ্যে ঘটলেও এতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ততা থাকায় বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। দেশটিতে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি বিভিন্ন পেশায় কর্মরত রয়েছেন। তাদের অনেকেই পরিবহন খাতেও কাজ করেন, যেখানে সড়ক নিরাপত্তা একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যান্ত্রিক ত্রুটি, অতিরিক্ত গতি এবং চালকের অসতর্কতা—এই তিনটি কারণই বেশিরভাগ সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে দায়ী। তাই নিয়মিত যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলা জরুরি।
এদিকে নিহত বাংলাদেশির পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তার পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে কিনা, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে যেকোনো মুহূর্তেই বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কঠোর আইন প্রয়োগই হতে পারে এ ধরনের দুর্ঘটনা কমানোর কার্যকর উপায়।
কসমিক ডেস্ক