রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় ঈদের নামাজে কে ইমামতি করবেন তা নিয়ে স্থানীয় জামায়াত ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার সাকোয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এতে একজন নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম মো. আলাউদ্দিন (৫৫), সাকোয়া গ্রামের মৃত মালা বক্সের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদগাহে কে নামাজ পড়াবেন তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এ সময় আলাউদ্দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তার ছেলেদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। নিহতের দুই ছেলে জামায়াতের সমর্থক বলে জানা গেছে।
রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসপি) সাবিনা ইয়াসমিন জানান, ঈদের নামাজে ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। ওই সময় আলাউদ্দিন পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, তিনি স্ট্রোকের কারণে মারা গেছেন। নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
ডিএসপি আরও বলেন, নিহতের ছেলেরা অবশ্য জামায়াতের কর্মী হলেও আলাউদ্দিন নিজে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না তা স্পষ্ট নয়। এই ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সংঘর্ষের পর বিক্ষুব্ধ জামায়াত সমর্থকরা রাজশাহী–নওগাঁ মহাসড়ক অবরোধ করে এবং সেখানে আগুন জ্বালান। এ সময় একটি মোটরসাইকেলও পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, নামাজের ইমাম নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিতর্ক চলে আসছিল। ঈদের দিন এটি সংঘর্ষের রূপ নিলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। পুলিশ অবরোধ ভেঙে এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে।
প্রসঙ্গত, এই ধরনের রাজনৈতিক সমর্থকদের সংঘর্ষে সাধারণ মানুষ প্রভাবিত হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।
সংক্ষেপে, রাজশাহীর মোহনপুরে ঈদের নামাজে ইমাম নিয়োগ নিয়ে সংঘর্ষে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশ ও প্রশাসনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক