মার্কিন ভিসার জন্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এখন থেকে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির অনভিবাসী ভিসা প্রার্থীদের তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল ‘পাবলিক’ বা উন্মুক্ত রাখতে হবে। এই নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকাস্থ U.S. Embassy Dhaka।
শুক্রবার (৫ জুন) এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় দূতাবাস জানায়, ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, আবেদনকারীদের পরিচয় যাচাই এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্যতা নির্ধারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী, গত ৩০ মার্চ থেকে এ-৩, সি-৩ (গৃহকর্মী হলে), জি-৫, এইচ-৩ এবং তাদের নির্ভরশীল এইচ-৪, কে-১, কে-২, কে-৩, কিউ, আর-১, আর-২, এস, টি এবং ইউ ভিসা ক্যাটাগরির আবেদনকারীদের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য। এসব ক্যাটাগরির অধীনে আবেদনকারী সবাইকে তাদের ব্যবহৃত সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের প্রাইভেসি সেটিংস ‘পাবলিক’ রাখতে বলা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভিসা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা যাচাই আরও জোরদার করা হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন ব্যক্তির পরিচয়, কার্যক্রম এবং মতামতের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে এসব তথ্য পর্যালোচনার মাধ্যমে আবেদনকারীর বিষয়ে আরও বিস্তারিত ধারণা পাওয়া সম্ভব।
তবে এই নির্দেশনা নিয়ে কিছু উদ্বেগও রয়েছে। অনেক আবেদনকারী মনে করছেন, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা প্রাইভেসি ক্ষুণ্ন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত সামাজিক মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করেন, তাদের জন্য বিষয়টি সংবেদনশীল হতে পারে।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, এই পদক্ষেপ মূলত নিরাপত্তা ও যাচাই প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য নেওয়া হয়েছে। এতে ভিসা আবেদন যাচাই দ্রুততর হবে এবং কোনো ধরনের অসঙ্গতি থাকলে তা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
বিশ্বজুড়ে অভিবাসন নীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে কড়াকড়ি বাড়ছে। United States-সহ অনেক দেশই তাদের সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ভিসা যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করছে। এই প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে একটি গুরুত্বপূর্ণ যাচাই মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এছাড়া প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে এখন বিভিন্ন তথ্য সহজেই বিশ্লেষণ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে ভিসা প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল তথ্যের ব্যবহার বাড়ানোকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে, মার্কিন ভিসা প্রার্থীদের জন্য এটি একটি নতুন বাস্তবতা। যারা যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বা কাজের উদ্দেশ্যে যেতে চান, তাদের এই নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। আবেদন করার আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রোফাইলগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কসমিক ডেস্ক