রমজানের প্রথম জুমায় ষাটগম্বুজে ইবাদতে মুখর পরিবেশ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

রমজানের প্রথম জুমায় ষাটগম্বুজে ইবাদতে মুখর পরিবেশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 20, 2026 ইং
রমজানের প্রথম জুমায় ষাটগম্বুজে ইবাদতে মুখর পরিবেশ ছবির ক্যাপশন:

পবিত্র রমজানের প্রথম জুমা উপলক্ষে বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় এক ব্যতিক্রমী ধর্মীয় আবহ। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই মসজিদ এলাকায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। খুতবার আগেই মসজিদের ভেতর ও বাইরের অংশ মুসল্লিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। রমজানের প্রথম জুমা এই ঐতিহাসিক মসজিদে আদায় করার আগ্রহে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অনেকে ছুটে আসেন।

সাধারণ সময়ের তুলনায় এদিন পর্যটকদের আনাগোনা কিছুটা কম থাকলেও মুসল্লিদের উপস্থিতিতে মসজিদ চত্বর ছিল প্রাণবন্ত। নামাজের আগে মুসল্লিরা কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও নফল ইবাদতে মশগুল ছিলেন। ঐতিহাসিক স্থাপনার নীরব সৌন্দর্য ও ধর্মীয় আবহ মিলিয়ে সৃষ্টি হয় এক গভীর আত্মিক পরিবেশ।

জুমার নামাজে ইমামতি করেন ষাটগম্বুজ মসজিদের ভারপ্রাপ্ত ইমাম মাওলানা মো. নাসির উদ্দিন। খুতবায় তিনি রমজানের তাৎপর্য, তাকওয়া অর্জনের গুরুত্ব এবং ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে সংযমের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

খুলনা থেকে আগত মুসল্লি আবদুল কাদের বলেন, রমজানের প্রথম জুমা ষাটগম্বুজ মসজিদে আদায় করার ইচ্ছা তার অনেক দিনের। তিনি বলেন, “এই মসজিদে নামাজ পড়লে মনে অন্যরকম শান্তি লাগে। পরিবেশটাই আলাদা।” তার মতো আরও অনেক মুসল্লি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এখানে এসে ইবাদত করতে পেরে তৃপ্তি প্রকাশ করেন।

ঢাকা থেকে আসা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃত এই মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে পারা তার কাছে সৌভাগ্যের বিষয়। তিনি বলেন, “এত মানুষের সঙ্গে একসাথে ইবাদত করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। ইতিহাসের অংশ হয়ে নামাজ পড়ার অনুভূতি আলাদা।”

স্থানীয় মুসল্লি হাফিজুর রহমান বলেন, রমজান মাস এলেই প্রতি জুমায় এখানে মুসল্লিদের সংখ্যা বেড়ে যায়। তিনি জানান, প্রশাসন ও মসজিদ কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা ভালো থাকায় সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে নামাজ আদায় করতে পারছেন। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও চোখে পড়েছে।

আইনজীবী মাসুম শেখ বলেন, ষাটগম্বুজ মসজিদে নামাজ পড়লে অন্তরে গভীর প্রশান্তি অনুভূত হয়। তার মতে, এটি শুধু একটি মসজিদ নয়, বরং ইসলামী ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন। এখানে সেজদা দিতে পারাকে তিনি নিজের জন্য গর্বের বিষয় বলে উল্লেখ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান হুসাইন বলেন, তারা প্রতি রমজানের প্রথম জুমা ষাটগম্বুজ মসজিদেই আদায় করার চেষ্টা করেন। বন্ধুদের সঙ্গে একসাথে নামাজ পড়ার আনন্দ ও আধ্যাত্মিক অনুভূতি আলাদা বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মসজিদের ভারপ্রাপ্ত ইমাম মাওলানা মো. নাসির উদ্দিন জানান, রমজান উপলক্ষে মসজিদে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, রমজানের পুরো মাস দু’জন স্বনামধন্য হাফেজ দ্বারা খতমে তারাবিহ নামাজ আদায় করানো হয়। পাশাপাশি প্রতিদিন দুই থেকে তিনশো রোজাদারের জন্য ইফতারির ব্যবস্থা করা হয়। শুক্রবারে আয়োজন আরও বিস্তৃত থাকে বলে তিনি জানান।

ঐতিহাসিক এই মসজিদে রমজানের প্রথম জুমার এমন সমাগম প্রমাণ করে, ধর্মীয় অনুভূতি ও ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের গভীর টান এখনো অটুট। ষাটগম্বুজ মসজিদ শুধু অতীতের স্থাপত্য নয়, বরং আজও এটি মুসলমানদের ইবাদত, ঐক্য ও আত্মিক শান্তির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রেখে চলেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ফোন নম্বর হ্যাকড হওয়ার তথ্য দিলেন জ্বালানি উপদেষ্টা

ফোন নম্বর হ্যাকড হওয়ার তথ্য দিলেন জ্বালানি উপদেষ্টা