ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা দেওয়া শুরু করেছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) থেকে দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে এই সেবা কার্যকর করা হয়। এটি এসেছে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায়, প্রায় দুই মাসের স্থগিত সময়ের পর।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পদক্ষেপটি দুই দেশের মধ্যে জমে থাকা অচলাবস্থা কাটানোর প্রাথমিক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, নয়াদিল্লির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে নতুন সরকার দ্রুত ইতিবাচক বার্তা দিতে চেয়েছে।
গত ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর দুই দেশের সম্পর্ক খারাপের দিকে যায়। ওই ঘটনার পর বাংলাদেশে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয় এবং সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এই কারণে উভয় দেশই কনস্যুলার ও ভিসা সেবা স্থগিত করেছিল।
দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল থেকে সব ধরনের ভিসা পুনরায় চালু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পর্যটন, চিকিৎসা, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানভিসা। ডিসেম্বরের নিষেধাজ্ঞার সময় ব্যবসা ও কর্মসংস্থানভিসা আংশিকভাবে চালু ছিল, এখন সব ক্যাটাগরি স্বাভাবিক।
ভারতের সিলেট কনস্যুলার অফিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাস জানান, বাংলাদেশিদের জন্যও শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ ভিসা সেবা চালু করবে ভারত। বর্তমানে চিকিৎসা ও ডাবল-এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হলেও অচিরেই অন্যান্য ভিসাও স্বাভাবিক হবে।
সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রে মোদি এর পক্ষ থেকে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ঢাকায় তারেক রহমান-এর শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং বৈঠক করেন। ওই সময় তিনি মোদীর আমন্ত্রণপত্রও হস্তান্তর করেন।
এভাবে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ভিসা সেবা পুনঃচলু করা হলো।
কসমিক ডেস্ক