জ্বালানি তেলের অবৈধ পাচার প্রতিরোধে দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত পথে তেল পাচারের সম্ভাবনা ঠেকাতে নিয়মিত টহল জোরদারের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিজিবির দিনাজপুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান।
তিনি জানান, বিজিবি সদর দপ্তর থেকে জ্বালানি তেল পাচার প্রতিরোধে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশনার আলোকে দিনাজপুর সেক্টরের আওতাধীন সব সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সদস্যদের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
কর্নেল ফয়সল হাসান খান বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সম্পদ যেন কোনোভাবেই সীমান্ত দিয়ে পাচার হয়ে না যায়, সে বিষয়ে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।
তিনি আরও জানান, নিয়মিত টহল পরিচালনার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চলাচলের ওপর কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সদস্যদের প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে ওঠানামা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ববাজারে জ্বালানি খাতে প্রভাব ফেলেছে।
এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অধিক মুনাফার আশায় কিছু অসাধু চক্র সীমান্ত দিয়ে তেল পাচারের চেষ্টা করতে পারে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই সীমান্ত এলাকায় বাড়তি সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, অতীতেও বিভিন্ন সময় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে তেল পাচারের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বিজিবির তৎপরতায় সেসব প্রচেষ্টা বেশ কয়েকবার ব্যর্থ হয়েছে।
সীমান্তরক্ষী বাহিনীটি আরও জানায়, দেশের জ্বালানি সম্পদ সুরক্ষার স্বার্থে সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি, টহল কার্যক্রম এবং গোয়েন্দা তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
বিজিবির পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ নজরে এলে তা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো যায়।
কসমিক ডেস্ক