ঢাকার ২০টি সংসদীয় আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে হেভিওয়েট প্রার্থীদের একটি বড় অংশের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপির শীর্ষ নেতাদের মনোনয়নপত্র যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান এবং ঢাকা-১১ আসনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এবং ওই আসনেই এনসিপির প্রার্থী ও দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মনোনয়নপত্রও বৈধ হয়েছে।
অন্যদিকে ঢাকা-৯ আসনের আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের মো. খালেকুজ্জামানের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। দুজনের মনোনয়নপত্র স্থগিত রয়েছে। তাসনিম জারা মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম আজ শেষ হচ্ছে। আগামীকাল সোমবার থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে। নির্বাচন কমিশন ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে এসব আপিল নিষ্পত্তি করবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ঢাকা মহানগর ও জেলা মিলিয়ে মোট ২০টি সংসদীয় আসন রয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি আসন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের অধীনে, পাঁচটি ঢাকা জেলা প্রশাসকের অধীনে এবং দুটি ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার অধীনে রয়েছে।
ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির তারেক রহমানের বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন স ম খালিদুজ্জামান। ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ও বিএনপির শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনসহ ছয়জনের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। একই আসনে সিপিবির আহাম্মদ সাজেদুল হক রুবেলসহ তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
ঢাকা-১ আসনে সাতজন প্রার্থীর মধ্যে দুইজনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের একজন স্বতন্ত্র এবং অন্যজন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নুরুল ইসলাম। ঢাকা-২ আসনে তিনজনের মধ্যে জামায়াত প্রার্থী মো. আব্দুল হকের মনোনয়ন ঋণখেলাপির অভিযোগে বাতিল হয়েছে। তবে বিএনপির প্রার্থী মো. আমানউল্লাহ আমানের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ঢাকা-৩ আসনে মোট ১৬ জন প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও জামায়াতের মো. শাহিনুর ইসলামসহ আটজনের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। বাকি আটজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অধিকাংশই স্বতন্ত্র প্রার্থী। ঢাকা-১৩ আসনে ১১ জনের মধ্যে বিএনপির ববি হাজ্জাজ, খেলাফত মজলিসের মামুনুল হকসহ ছয়জনের মনোনয়ন বৈধ এবং পাঁচজনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
ঢাকা-১৮ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ আশরাফুল হকের মনোনয়ন স্থগিত রয়েছে। ঢাকা-১৯ আসনে জমা দেওয়া ১১টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে নয়টি বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ধামরাই উপজেলা নিয়ে গঠিত ঢাকা-২০ আসনে ছয়জন প্রার্থীর সবাইকেই বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে নির্বাচন কমিশন সাতটি নির্দেশনা দিয়েছে। নির্ধারিত ফরম্যাটে স্মারকলিপি আকারে আপিল দাখিলসহ নির্দিষ্ট বুথে আবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এ জন্য ১০টি বুথ স্থাপন করা হচ্ছে।
ঢাকার বিভিন্ন আসনের মনোনয়ন যাচাই শেষে বৈধ ও বাতিল তালিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
কসমিক ডেস্ক