নরসিংদীতে এক তরুণীকে ধর্ষণের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মামলার প্রধান অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ নূরা এখনও পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রেজাউল করিম মল্লিক, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি, এবং খায়রুল কবির খোকন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য।
পরিদর্শন শেষে মাধবদী থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক জানান, নিহতের মা ফাহিমা বেগম নয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ইউপি সদস্য আহম্মদ আলী দেওয়ান, তার ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান, অভিযুক্ত নূরার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আইয়ুব, এবাদুল্লাহ ও গাফফার। পুলিশ জানায়, এদের মধ্যে দুজন সরাসরি ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত এবং তিনজন সালিশ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ডিআইজি আরও বলেন, বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর খায়রুল কবির খোকন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনা জানার পরপরই তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত গ্রেপ্তারের তাগিদ দেন। তার মতে, ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, ধর্ষণ ও হত্যার মতো অপরাধে জড়িতদের পক্ষে কেউ যাতে সহানুভূতি না দেখায় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী মহলকে অভিযুক্তদের আইনি সহায়তা না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে নিহত তরুণীর মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। নরসিংদী সদর হাসপাতাল-এর আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফরিদা গুলশানারা কবিরের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে। বর্তমানে মরদেহ মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে।
নিহতের মা ফাহিমা বেগম জানান, মরদেহ কোথায় দাফন করা হবে সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি, নিহতের সৎ পিতা আশরাফ মিয়া এবং ভাই সিফাত বর্তমানে মাধবদী থানা হেফাজতে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগের পেছনের প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের আওতায় আনতে তারা কাজ করে যাচ্ছে।
এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
কসমিক ডেস্ক