এপস্টিনের নথির ছবিতে স্টিফেন হকিংয়ের পাশে থাকা দুই নারী কে? The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

এপস্টিনের নথির ছবিতে স্টিফেন হকিংয়ের পাশে থাকা দুই নারী কে?

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 26, 2026 ইং
এপস্টিনের নথির ছবিতে স্টিফেন হকিংয়ের পাশে থাকা দুই নারী কে? ছবির ক্যাপশন: মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথিতে ২০০৬ সালের একটি ছবিতে স্টিফেন হকিংয়ের পাশে দুই নারী—যাঁদের পরিচয় পরে সামনে আসে।

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিপত্র প্রকাশের পর নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে একটি ছবি। মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত ফাইলের মধ্যে থাকা ওই ছবিতে বিখ্যাত ব্রিটিশ পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং-কে দুই বিকিনি পরিহিত নারীর মাঝখানে বসে থাকতে দেখা যায়। ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

তবে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ অনুসন্ধান চালিয়ে জানিয়েছে, ছবিতে হকিংয়ের পাশে থাকা দুই নারী ছিলেন তাঁর দীর্ঘদিনের দুই সেবাদাতা বা কেয়ারার। তাঁরা যুক্তরাজ্য থেকেই তাঁর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন।

মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, হকিং রোদ পোহানোর চেয়ারে বসে আছেন এবং তাঁর দুই পাশে কালো বিকিনি পরা দুই নারী জুসভর্তি গ্লাস হাতে দাঁড়িয়ে আছেন। ছবিটি ২০০৬ সালে ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডসের সেন্ট টমাস এলাকায় অবস্থিত ‘রিৎজ-কার্লটন’ হোটেলে তোলা হয়েছিল। সে সময় সেখানে একটি বিজ্ঞান সেমিনার অনুষ্ঠিত হচ্ছিল, যেখানে হকিং কোয়ান্টাম কসমোলজি বিষয়ে বক্তৃতা দেন।

ওই সফরে ২১ জন বিজ্ঞানীর একটি দল অংশ নিয়েছিলেন। তাঁরা এপস্টিনের মালিকানাধীন ‘লিটল সেন্ট জেমস’ দ্বীপেও গিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে এপস্টিনের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন পাচারের অভিযোগ ওঠে এবং তদন্তের অংশ হিসেবে লাখ লাখ নথি প্রকাশ করা হয়। সেই নথির মধ্যেই হকিংয়ের এই ছবি পাওয়া যায়।

নথিপত্রে হকিংয়ের নাম প্রায় ২৫০ বার উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে ২০০৬ সালের মার্চে একটি বারবিকিউ পার্টি এবং একজন অজ্ঞাত নারীর সঙ্গে নৌকা ও সাবমেরিন ভ্রমণের ছবিতেও তাঁকে দেখা গিয়েছিল। এমনকি এপস্টিন নাকি তাঁর জন্য বিশেষভাবে একটি সাবমেরিন তৈরি করেছিলেন—এমন দাবিও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে।

নথিতে ২০১৫ সালের একটি ই-মেইলের কথাও উল্লেখ রয়েছে। সেখানে ভার্জিনিয়া জিউফ্রে নামের এক নারীর তোলা অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল। জিউফ্রে দাবি করেছিলেন, হকিং অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের নিয়ে আয়োজিত এক যৌন উৎসবে অংশ নিয়েছিলেন। তবে প্রকাশিত ই-মেইলে ওই অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং তা খণ্ডনের উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এপস্টিনের সাবেক সঙ্গী গিলেন ম্যাক্সওয়েল-ও ওই ই-মেইল আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে ম্যাক্সওয়েল পাচারের দায়ে কারাভোগ করছেন। অপরদিকে, ভার্জিনিয়া জিউফ্রে দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিলেন, তাঁকে এপস্টিন পাচার করেছিলেন। তিনি গত বছর ৪১ বছর বয়সে আত্মহত্যা করেন।

হকিং পরিবারের এক মুখপাত্র এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, অধ্যাপক হকিং বিশ শতকের অন্যতম প্রভাবশালী পদার্থবিদ ছিলেন এবং দীর্ঘদিন মোটর নিউরন রোগে ভুগলেও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অসাধারণ অবদান রেখেছেন। শারীরিক অবস্থার কারণে তিনি সার্বক্ষণিক চিকিৎসা ও সেবার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। তাঁর নামে যেকোনো অশালীন আচরণের ইঙ্গিত দেওয়া ভিত্তিহীন ও অবাস্তব বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মোটর নিউরন রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় লড়াই করার পর ২০১৮ সালে ৭৬ বছর বয়সে স্টিফেন হকিং মারা যান। তিনি তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান ও মহাকাশবিজ্ঞানে যুগান্তকারী অবদানের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।

সব মিলিয়ে, এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিতে প্রকাশিত ছবিটি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিলেও অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছবিতে হকিংয়ের পাশে থাকা দুই নারী ছিলেন তাঁর ব্যক্তিগত সেবাদাতা। প্রকাশিত নথিতে অনেক নাম থাকলেও সবার বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি—এ তথ্যও উল্লেখ করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।



নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ইরান ছাড়তে নাগরিকদের জরুরি সতর্কতা ফ্রান্স ও কানাডার

ইরান ছাড়তে নাগরিকদের জরুরি সতর্কতা ফ্রান্স ও কানাডার