ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার বিলম্বে ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট, বিচারককে হাজিরের নির্দেশ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার বিলম্বে ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট, বিচারককে হাজিরের নির্দেশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 9, 2026 ইং
ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার বিলম্বে ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট, বিচারককে হাজিরের নির্দেশ ছবির ক্যাপশন:

ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার দীর্ঘদিনেও শেষ না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। এ ঘটনায় হবিগঞ্জের তৃতীয় নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা মিনহাজ উম মুনিরাকে আগামী ২৩ জুন সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশ ও বিচারপতি মো. সাগরির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন। একটি জামিন আবেদনের শুনানিকালে মামলার বিচার দীর্ঘদিনেও শেষ না হওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে এলে এই আদেশ দেওয়া হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী অভিযোগ গঠনের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচারকাজ সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট মামলায় অভিযোগ গঠনের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যন্ত শুরু হয়নি। বিষয়টি আদালতের নজরে আসার পর বিচার বিলম্বের কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট বিচারককে তলব করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৭ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বাগাউড়া এলাকায় একটি ধানক্ষেত থেকে গলা কাটা ও হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন নিহতের বাবা নবীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে।

তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হলে একই বছর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। কিন্তু এরপরও মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়নি।

এদিকে দীর্ঘদিন বিচার কার্যক্রম অগ্রসর না হওয়ায় চলতি বছরে এক আসামি জামিনের আবেদন করেন। নিম্ন আদালতে আবেদন নাকচ হওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। সেই আবেদনের শুনানিকালে বিচার বিলম্বের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেন আদালত।

আইনজীবীদের ভাষ্যমতে, বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণেই দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ওপর আদালত গুরুত্বারোপ করেছেন।

উল্লেখ্য, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সাম্প্রতিক সংশোধনের মাধ্যমে ধর্ষণ মামলার তদন্ত ও বিচার সম্পন্নের সময়সীমা আরও কমানো হয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, ধর্ষণ মামলার তদন্ত ১৫ দিনের মধ্যে এবং বিচার ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
আচরণবিধি মানতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কড়া নির্দেশনা দিল ইসি

আচরণবিধি মানতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কড়া নির্দেশনা দিল ইসি