ক্যানাইন ডিসটেম্পার ভাইরাসে থাইল্যান্ডে ৭২ বাঘের মৃত্যু The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ক্যানাইন ডিসটেম্পার ভাইরাসে থাইল্যান্ডে ৭২ বাঘের মৃত্যু

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 22, 2026 ইং
ক্যানাইন ডিসটেম্পার ভাইরাসে থাইল্যান্ডে ৭২ বাঘের মৃত্যু ছবির ক্যাপশন:

থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় চিয়াং মাই প্রদেশের একটি চিড়িয়াখানায় ভয়াবহ ভাইরাস সংক্রমণে অন্তত ৭২টি বাঘ মারা গেছে। শুক্রবার প্রদেশের প্রাণিসম্পদ দপ্তরের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে, বাঘগুলো উচ্চ সংক্রমণক্ষম ক্যানাইন ডিসটেম্পার ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল। পাশাপাশি তাদের শ্বসনযন্ত্রে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণও পাওয়া গেছে।

প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, আক্রান্ত বাঘগুলোর শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটে। অসুস্থতার লক্ষণ স্পষ্ট হওয়ার আগেই অনেক বাঘ মারা যায়, ফলে সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে থাইল্যান্ডের জাতীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক সমচুয়ান রাটানামুঙক্লানন বলেন, বাঘ অসুস্থ হলে তা দ্রুত শনাক্ত করা কঠিন। তিনি বলেন, কুকুর বা বিড়ালের মতো সহজে বাঘের অসুস্থতা বোঝা যায় না। অনেক সময় যখন বোঝা যায়, তখন সংক্রমণ অনেক দূর ছড়িয়ে পড়ে এবং কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ কমে যায়।

বিপুলসংখ্যক বাঘের মৃত্যুর ঘটনায় চিয়াং মাইয়ের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র টাইগার্স কিংডম চিড়িয়াখানাটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই চিড়িয়াখানাটি পর্যটকদের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিল, কারণ এখানে দর্শনার্থীরা বাঘকে জড়িয়ে ধরার এবং বাঘের সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ পেতেন। এসব কার্যক্রমের কারণেই এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হয়েছিল।

চিড়িয়াখানা বন্ধ হওয়ার খবরে স্থানীয় পর্যটন খাতেও প্রভাব পড়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাণীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সংক্রমণের উৎস ও বিস্তার কীভাবে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রাণী অধিকার সংগঠন PETA কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এশিয়া বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলে, বাঘগুলো যে পরিবেশে জীবনযাপন করছিল, সেই পরিবেশই তাদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, বাঘগুলো দুর্ভোগপূর্ণ, অবরুদ্ধ ও ভীতিকর অবস্থার মধ্যে ছিল।

পেটা আরও দাবি করে, যদি পর্যটকেরা এ ধরনের চিড়িয়াখানা থেকে দূরে থাকতেন, তাহলে এসব স্থান দ্রুত অলাভজনক হয়ে যেত এবং এমন মর্মান্তিক ঘটনা আর ঘটত না। সংগঠনটির মতে, বন্য প্রাণীদের বিনোদনের বস্তু হিসেবে ব্যবহার করা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

এই ঘটনার পর থাইল্যান্ডে চিড়িয়াখানায় প্রাণী কল্যাণ, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও পর্যটন কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্য প্রাণীদের সংক্রমণ প্রতিরোধে আরও কঠোর স্বাস্থ্য নজরদারি ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।

প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংক্রমণ এড়াতে চিড়িয়াখানাগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, টিকা কার্যক্রম এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে পর্যটন কার্যক্রমের ধরন নিয়েও পুনর্বিবেচনার কথা ভাবা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, চিয়াং মাইয়ের এই চিড়িয়াখানায় বাঘের গণমৃত্যু থাইল্যান্ডের বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও পর্যটন ব্যবস্থাপনায় একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জকসু নির্বাচন ঘিরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্

জকসু নির্বাচন ঘিরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্