ভারতে ক্যানসারের ওষুধের দাম ৫০% পর্যন্ত বৃদ্ধি, ভ্যাকসিনেও সমন্বয় The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ভারতে ক্যানসারের ওষুধের দাম ৫০% পর্যন্ত বৃদ্ধি, ভ্যাকসিনেও সমন্বয়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 13, 2026 ইং
ভারতে ক্যানসারের ওষুধের দাম ৫০% পর্যন্ত বৃদ্ধি, ভ্যাকসিনেও সমন্বয় ছবির ক্যাপশন:

ভারতে ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ কিছু ওষুধের দাম সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু ভ্যাকসিনের মূল্যও সমন্বয় করা হয়েছে। দেশটির ওষুধ মূল্য নির্ধারণকারী সংস্থা ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি (এনপিপিএ) এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে কাঁচামালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় ওষুধ উৎপাদন ব্যয় অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে উৎপাদকদের জন্য পূর্বের দামে ওষুধ সরবরাহ অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়ছিল। একই সঙ্গে বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছিল।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্যানসার চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত কার্বোপ্লাটিন এবং সিসপ্লাটিন ইনজেকশনের দাম সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই দুটি ওষুধ কেমোথেরাপির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ওষুধের দাম বাড়লে সরাসরি ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত রোগীদের জন্য এটি বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।

এছাড়া টিটেনাস প্রতিরোধে ব্যবহৃত অ্যান্টি-টিটেনাস ইমিউনোগ্লোবুলিন ইনজেকশন এবং সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া তৈরি শিশুদের কয়েকটি ভ্যাকসিনের দামও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

এনপিপিএ জানিয়েছে, এই মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে ওষুধের উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে। অন্যথায় উৎপাদন কমে গেলে বাজারে ঘাটতি তৈরি হতে পারত, যা রোগীদের জন্য আরও বড় সংকট সৃষ্টি করত।

স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা আগেই সতর্ক করেছিলেন, যদি এসব গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের সরবরাহ ব্যাহত হয়, তাহলে রোগীদের বিকল্প ওষুধ ব্যবহার করতে হবে, যা অনেক ক্ষেত্রে আরও ব্যয়বহুল। ফলে চিকিৎসা ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতো।

এ অবস্থায় মূল্য বৃদ্ধি হলেও সরবরাহ নিশ্চিত করা একটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ বলে মনে করছেন কিছু বিশেষজ্ঞ। তবে তারা একই সঙ্গে সরকারের কাছে রোগীদের জন্য সহায়তা বা ভর্তুকির ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।

কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, নতুন নির্ধারিত দাম স্থায়ী নয়। আগামী ছয় মাস পর এই মূল্য আবার পর্যালোচনা করা হবে। তখন বাজার পরিস্থিতি, কাঁচামালের দাম এবং উৎপাদন ব্যয়ের ওপর ভিত্তি করে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ভারতের এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে, অন্যদিকে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে—যা স্বাস্থ্যখাতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জিয়ার দেশপ্রেম ও নেতৃত্ব নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে : রা

জিয়ার দেশপ্রেম ও নেতৃত্ব নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে : রা