সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের হওয়া পৃথক মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দলের চার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান।
পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শুক্রবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—জেলা মৎস্যজীবী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সয়দাবাদ ইউনিয়নের বাঐতারা গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেন মন্ডল, বাগবাটি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ধলডোব গ্রামের ময়নুল হক, একই ওয়ার্ডের সহসভাপতি ও হরিনা গোপাল গ্রামের শুকুর মাহমুদ এবং পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সদস্য দত্তবাড়ি মহল্লার মো. রাব্বি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে মোয়াজ্জেম হোসেন মন্ডল একটি গুরুতর হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জান্নাত আরা হেনরীর বাসায় অগ্নিসংযোগ এবং দুই ছাত্রকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
অন্য তিনজন আসামির বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দায়ের হওয়া বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সদর থানার ওসি রাকিবুল হাসান বলেন, “বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলায় অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং যেসব মামলায় এজাহারভুক্ত বা তদন্তাধীন আসামি রয়েছে, তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। তবে পুলিশ বলছে, মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের মামলাগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এগুলোতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এ ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
কসমিক ডেস্ক