নড়াইল জেলায় দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব ভবন না থাকায় ২৭টি সরকারি দপ্তর ভাড়া ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে শুধু সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয়ই হচ্ছে না, বরং সেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিরও মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
জেলা গণপূর্ত বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নড়াইলে মোট ৮০টি সরকারি দপ্তরের মধ্যে ২৭টি দপ্তর ভাড়া বাসায় পরিচালিত হচ্ছে। এসব দপ্তরের মধ্যে রয়েছে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর, জেলা তথ্য অফিস, কাস্টমস, সমাজসেবা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, মৎস্য অফিস, পাট উন্নয়ন, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান।
২০১৮ সালের হিসাব অনুযায়ী, এসব দপ্তরের ভাড়ার খরচ বাজারদরে বছরে কোটি টাকার ঘরে পৌঁছেছে। শুধুমাত্র একটি দপ্তর, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) জেলা কার্যালয়কেই মাসে ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়।
দপ্তর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভাড়া ভবনে কাজ পরিচালনায় নানা ধরনের প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে বারবার স্থান পরিবর্তন বা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কার্যালয়ের কারণে সেবাগ্রহীতারা দিকনির্দেশনাহীনতায় ভোগেন।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মালেক মিয়া জানান, ভাড়া ভবনে বসে সরকারি কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, সীমিত জায়গা ও উচ্চ ভাড়ার কারণে কার্যক্রম পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
সেবাগ্রহীতারাও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বিভিন্ন দপ্তর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকায় একটি সাধারণ কাজ সম্পন্ন করতে একাধিক জায়গায় যেতে হয়, যা সময় ও অর্থ উভয়ই বাড়িয়ে দেয়।
গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব সমস্যা সমাধানে একটি সমন্বিত জেলা কার্যালয় ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে এক ছাদের নিচে সব দপ্তর আনা সম্ভব হবে এবং সরকারি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
নড়াইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সারোয়ার হোসাইন জানান, সরকার ইতোমধ্যে সমন্বিত অফিস ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে সেবা সহজ হবে, খরচ কমবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলা পর্যায়ে এ ধরনের সমন্বিত প্রশাসনিক ভবন শুধু ব্যয় সাশ্রয়ই নয়, বরং জনসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কসমিক ডেস্ক