রংপুর-৪ কাউনিয়া-পীরগাছা আসনে জাতীয় পার্টি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে রংপুর নগরীর সরেয়ার তল বাজার এলাকায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু নাসের মো. মাহবুবার রহমানের গাড়ি আটকে তাকে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এনসিপি ও জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী জাপা প্রার্থীর গাড়ি ঘিরে ধরে ‘দোসর’ স্লোগান দেন এবং একপর্যায়ে গাড়ির চাবি কেড়ে নেওয়া হয়। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এ সময় একটি দোকানে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা পারুল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলামকে উদ্ধার করে মাহিগঞ্জ থানায় নেওয়া হয়।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবার রহমান জানান, পীরগাছা থেকে রংপুর নগরীতে যাওয়ার পথে ৭ থেকে ৮টি মোটরসাইকেলে করে এনসিপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাকে ধাওয়া করেন। সরেয়ার তল এলাকায় তার গাড়ি আটকে দিয়ে স্লোগান দিতে দিতে চাবি ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে ‘দোসর’ ট্যাগ দিয়ে মব তৈরি করা হয়েছে এবং এতে নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা রয়েছে।
অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী আখতার হোসেন পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে গণসংযোগ ও অর্থ বিতরণ করছিলেন। এ বিষয়ে প্রশাসনকে জানানো হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেন, সাধারণ জনগণ জাপা প্রার্থীকে আটকে দিলে এনসিপি নেতাকর্মীরা সেখানে যান এবং পরে জাপা প্রার্থী বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এনে এনসিপি ও জামায়াতের কর্মীদের অবরুদ্ধ করেন।
পীরগাছা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বজলুর রশিদ মুকুল বলেন, এ ঘটনায় জামায়াতের কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা নেই এবং কোনো প্রার্থীকে হেনস্তার দায় জামায়াত নেয় না।
মাহিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম জানান, দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে লাঙল প্রতীকের সমর্থকেরা একজনকে আটকে রাখলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক