তীব্র গরম ও হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ডায়রিয়া–এর প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শিশু, বয়স্কসহ অসংখ্য রোগী ডায়রিয়াজনিত অসুস্থতা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
চিকিৎসকদের মতে, আকস্মিক আবহাওয়ার পরিবর্তন ও তীব্র গরমের কারণে মানুষের শরীরে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে এ সময় শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। একই সঙ্গে দূষিত পানি পান, খোলা খাবার গ্রহণ এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি না মানাও রোগের বিস্তার বাড়াচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনই ডায়রিয়া ও পেটের সমস্যাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে প্রায় ৫৭ জন রোগী ডায়রিয়াজনিত অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া পেট ব্যথা, বমি, জ্বর ও ঠান্ডা-কাশিসহ নানা রোগে দেড় শতাধিক রোগী ভর্তি হয়েছেন। জরুরি ও বহির্বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ।
বর্তমানে হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি। সাত মাস বয়সী শিশু আয়ান, আড়াই বছরের শিশু সামিয়া, দেড় বছরের শিশু মুনতাহা—এমন অনেক শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। একইভাবে ৬২ বছর বয়সী ছকিনা বেগমসহ অনেক বয়স্ক রোগীও চিকিৎসা নিচ্ছেন।
শিশুদের ক্ষেত্রে বমি ও পাতলা পায়খানার মতো লক্ষণ দেখা দিচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শেখ হাসিবুর রেজা বলেন, হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও তীব্র গরমের কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। দূষিত পানি, বাসি খাবার এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানাই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ডায়রিয়া প্রতিরোধে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করা, খাবার ঢেকে রাখা, হাত পরিষ্কার রাখা এবং বাইরের খোলা খাবার পরিহার করা জরুরি। রোগ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং বেশি করে খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ইতোমধ্যে পর্যাপ্ত ওষুধ ও স্যালাইনের মজুত রেখেছে এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের সময় এ ধরনের রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তাই সচেতনতা ও দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণই এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায়।
কসমিক ডেস্ক