চীনের সরকারি কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ধর্মীয় পরিচয় ও বিশ্বাস নিয়ে নজরদারি বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি নিউইয়র্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইপোক টাইমসের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চেংডুর একটি সরকারি হাসপাতালের স্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক ও অস্থায়ী কর্মীদের ধর্মীয় বিশ্বাসসংক্রান্ত তথ্য দিতে বলা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কর্মীদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে একটি ব্যাপক জরিপ পরিচালনার কথা জানায়। সেখানে কাউকে বাদ না দিয়ে সব কর্মীর তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
যাদের কোনো ধর্মীয় বিশ্বাস নেই, তাদেরও সে তথ্য নিবন্ধন করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ধর্মীয় সংশ্লিষ্টতা থাকা কর্মীদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পার্টি শাখাকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যদের কোনো ধর্ম পালনের অনুমতি নেই বলেও ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রেও একই ধরনের কার্যক্রমের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সিচুয়ানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রশাসনিক কর্মীর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের পরিবারের ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে।
চেংডুর শিক্ষা কর্তৃপক্ষের এক কর্মীও দাবি করেছেন, নতুন শিক্ষার্থীরা স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগে তাদের পরিবারের বিষয়ে নিয়মিত পটভূমি যাচাই করা হয়। এতে ধর্মীয় সংশ্লিষ্টতার তথ্যও অন্তর্ভুক্ত থাকে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্য ইপোক টাইমসের মতে, এসব পদক্ষেপ চীনের ধর্মীয় বিষয়কে রাজনৈতিক ও আদর্শগত ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দেখার বৃহত্তর নীতির প্রতিফলন। চীনা কমিউনিস্ট পার্টি দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় বিষয়ে পার্টির নেতৃত্ব জোরদার এবং ‘ধর্মের চীনাকরণ’ নীতির কথা বলে আসছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে চীনা নেতা শি জিনপিং পার্টির বিভিন্ন স্তরের কর্তৃপক্ষকে ধর্মীয় বিষয়ে নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করার এবং ধর্মীয় কার্যক্রমকে পার্টির সামগ্রিক নেতৃত্ব কাঠামোর মধ্যে রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
কসমিক ডেস্ক