টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় মরিচসহ বিভিন্ন সবজির ক্ষেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে সবজির সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দামে, বিশেষ করে কাঁচামরিচের বাজারে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) পাকুন্দিয়া সদর বাজার, তারাকান্দি বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচামরিচ কেজিপ্রতি ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ মাত্র এক সপ্তাহ আগে একই মরিচের দাম ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
পাকুন্দিয়া পৌরবাজারের সবজি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম জানান, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে অধিকাংশ সবজির ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে বাজারে কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন সবজির সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আগামী দিনগুলোতে দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
কাঁচামরিচ ব্যবসায়ী রুকন উদ্দীন বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার প্রায় ৯০ শতাংশ মরিচ গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে স্থানীয় উৎপাদন প্রায় বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে মরিচ কিনতে হচ্ছে, তাই খুচরা বাজারেও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বাইরে থেকে বিশেষ করে ভারতীয় মরিচ বাজারে না এলে দাম আরও বাড়তে পারে।
দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। স্থানীয় বাসিন্দা গোলাপ মিয়া বলেন, হঠাৎ করে সবজি ও কাঁচামরিচের দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিবারের দৈনন্দিন বাজার খরচ অনেক বেড়ে গেছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার করাও এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নূর-ই-আলম জানান, চলতি মৌসুমে পাকুন্দিয়ায় প্রায় ২৫ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে নিচু এলাকার জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় প্রায় ৯০ শতাংশ মরিচক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে, আর সে কারণেই কাঁচামরিচের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে তিনি জানান।
কসমিক ডেস্ক