কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সঙ্গে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কাটাতে হয়। ফলে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও পেশাদার সম্পর্ক গড়ে ওঠা স্বাভাবিক। তবে অফিসে এমন কিছু সহকর্মীও থাকতে পারেন, যারা অন্যের কাজের ভুল-ত্রুটি খুঁজে বের করতে বেশি আগ্রহী। মিটিংয়ে বক্তব্যের বিরোধিতা, কাজের পদ্ধতি নিয়ে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন কিংবা আড়ালে সমালোচনা—এসব আচরণ কর্মপরিবেশে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গঠনমূলক সমালোচনা কর্মীর দক্ষতা ও কাজের মান বাড়াতে সহায়তা করে। তবে সমালোচনার উদ্দেশ্য যদি কাউকে ছোট করা, বিব্রত করা কিংবা ভুল প্রমাণ করা হয়, তাহলে তা ব্যক্তি ও দলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এমন সহকর্মীর আচরণ মোকাবিলায় আবেগের পরিবর্তে কৌশলী ও পেশাদার হওয়া জরুরি।
প্রথমেই নিজের কাজ ও সিদ্ধান্ত নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা উচিত। সমালোচনার মধ্যে সত্যতা থাকলে তা গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা ভালো। একই সঙ্গে সহকর্মীদের পরচর্চা বা গোপন অভিযোগের অংশ না হয়ে সমস্যা সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা উচিত।
কেউ প্রকাশ্যে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করলে তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে পরে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলা কার্যকর হতে পারে। নিয়মিত কাজের অগ্রগতি জানানো, প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ নেওয়া এবং সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করলেও ভুল বোঝাবুঝি কমতে পারে।
তবে সমালোচনা যদি অপমানজনক বা অশালীন পর্যায়ে চলে যায়, সেখানে স্পষ্ট সীমারেখা তৈরি করা প্রয়োজন। নিজের সম্মান বজায় রেখে সহকর্মীর প্রতিও শালীন আচরণ করাই পেশাদার কর্মপরিবেশের অন্যতম শর্ত।
কসমিক ডেস্ক