সামাজিক অবক্ষয়, মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন শহিদুল ইসলাম বাবুল। তিনি বলেছেন, মাদক নির্মূল না হলে কোনোভাবেই জাতিকে রক্ষা করা সম্ভব নয়। তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এখনই সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি।
শনিবার দুপুরে ফরিদপুরে আয়োজিত একটি সামাজিক সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বর্তমানে মাদক, ইভটিজিং, অনলাইন জুয়া ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধ সমাজকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে দিচ্ছে। এসব কুপ্রভাব তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল আরও বলেন, তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের যদি এখনই সঠিক পথে পরিচালিত করা না যায়, তাহলে ভবিষ্যতে দেশ ভয়াবহ সংকটে পড়বে। তাই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে এবং উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে দেশ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে।
সভায় তিনি অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের কাছ থেকে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, শুধুমাত্র প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, পরিবার ও সমাজের সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সমাজকে সুন্দর ও নিরাপদ রাখতে মাদক, ইভটিজিং এবং বাল্যবিবাহ বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি প্রতিটি পরিবার থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মো. রেজওয়ান দীপু, মিন্টু বিশ্বাস এবং শরীফ শাওনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সহস্রাধিক মানুষ এই সচেতনতামূলক সভায় অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা সবাই মিলে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে মাদক ও সামাজিক অপরাধ বাড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে তরুণ সমাজের জন্য বড় হুমকি। তাই রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যা মোকাবিলা কঠিন হবে।
সব মিলিয়ে এই সভা থেকে স্পষ্ট বার্তা এসেছে—মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে এখনই কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে, নইলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।